আনারস খেলেই গর্ভপাত হয়ে যাবে - এটা কি সত্যি? কোন সময় কতটা খাওয়া যায় আর কখন একদম নয়, রইল ডাক্তারের স্পষ্ট মত।
প্রেগন্যান্সির খবর পেলেই বাড়ির বড়রা প্রথমে বলে দেন "আনারস ছুঁয়েও দেখো না"। এর পেছনে কারণ হল আনারসে "ব্রোমেলিন" নামে একটা এনজাইম থাকে। এই ব্রোমেলিন জরায়ুর মুখ নরম করতে পারে আর বেশি পরিমাণে গেলে নাকি জরায়ু সংকোচন হতে পারে। তাই সবাই ভয় পায়।

কিন্তু সত্যিটা কী? ডাক্তাররা বলছেন, গর্ভপাত হওয়ার মতো এফেক্ট পেতে গেলে আপনাকে একসাথে ৭ থেকে ১০টা গোটা আনারস খেতে হবে। ২-৩ টুকরো পাকা আনারসে সেই রিস্ক নেই বললেই চলে।
তবে সময়টা বড় ফ্যাক্টর। প্রেগন্যান্সির প্রথম ৩ মাসে গর্ভপাতের রিস্ক সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময় ডাক্তাররা একটু সাবধান হতে বলেন। একদম কাঁচা বা আধপাকা আনারস এই সময় খাবেন না। কারণ কাঁচা আনারসে ব্রোমেলিন অনেক বেশি থাকে। যদি খেতেই ইচ্ছা হয় তাহলে ২-৩ টুকরো ভালো করে পাকা আনারস খেতে পারেন।
দ্বিতীয় আর তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এসে চিন্তা অনেকটাই কম। এই সময় পরিমিত পরিমাণে পাকা আনারস খাওয়া বরং উপকারি। এতে ভিটামিন C, ম্যাঙ্গানিজ আর ফাইবার আছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অনেকে ডেলিভারির ঠিক আগে লেবার পেইন তাড়াতাড়ি আনার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে অল্প আনারস খান। কারণ ব্রোমেলিন জরায়ুর মুখ নরম করতে সাহায্য করে।
কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আনারস একদম বাদ। যেমন আপনার যদি আগে কখনো মিসক্যারেজ হয়ে থাকে, যদি আনারসে অ্যালার্জি থাকে, বা যদি গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে তাহলে আনারস এড়িয়ে চলাই ভালো। আর জুস না খেয়ে গোটা ফল খান। জুসে ফাইবার থাকে না আর চিনি বেশি থাকে।
ভয় পেয়ে একদম আনারস বাদ দেওয়ার দরকার নেই। দিনে ৪-৫ টুকরো পাকা আনারস খেলে কোনো ক্ষতি হয় না। শুধু কাঁচা আনারস আর অতিরিক্ত পরিমাণটা বাদ দিন। সবচেয়ে ভালো হয় একবার আপনার গাইনোকলজিস্টের সাথে কথা বলে নেওয়া। কারণ প্রতিটা প্রেগন্যান্সি আলাদা।
