পর পর তিনবার বা তার বেশি গর্ভপাত হলে তাকে রিকারেন্ট মিসক্যারেজ বলে। এর কারণ হতে পারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েড, জিনগত সমস্যা, জরায়ুর ত্রুটি বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। জীবনযাপন আর মানসিক চাপও ভূমিকা রাখে।৭০-৮০% ক্ষেত্রে সঠিক পরীক্ষা আর চিকিৎসায় সুস্থ সন্তান সম্ভব।

একবার নয়, দুই-তিনবার মিসক্যারেজ হয়ে গেলে অনেক দম্পতির মনেই একটাই প্রশ্ন আসে — "আমরা কি কখনও বাবা-মা হতে পারব না?" ভয়, হতাশা আর অপরাধবোধে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বারবার মিসক্যারেজ মানেই মাতৃত্বের স্বপ্নের শেষ নয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পরপর তিনবার বা তার বেশি গর্ভপাতকে বলা হয় "রিকারেন্ট মিসক্যারেজ"। এর পেছনে থাকতে পারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েডের সমস্যা, জিনগত ত্রুটি, জরায়ুর গঠনগত সমস্যা, বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। এমনকি ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর অতিরিক্ত মানসিক চাপও এর কারণ হতে পারে।

ভালো খবর হলো, ৭০-৮০% ক্ষেত্রেই সঠিক কারণ ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা, জিন টেস্ট, হরমোন থেরাপি, আর জরায়ুর ছোটখাটো সার্জারির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাপন আর খাদ্যাভ্যাসে বদল আনলেই ফল মেলে।

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, একা লড়াই না করে দ্রুত ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট বা গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো ডায়াগনোসিস আর কাউন্সেলিং মানসিক শক্তি ফেরাতেও সাহায্য করে।

মাতৃত্বের পথ কখনও সবার জন্য একরকম হয় না। কখনও সেটা একটু ঘুরপথে হয়, কিন্তু থেমে যায় না। ধৈর্য, সঠিক চিকিৎসা আর পাশে থাকা মানুষের সাপোর্টই এই যাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি কোনো মহিলার টানা দুই বা তার বেশি বার মিসক্যারেজ হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময় মতো পরীক্ষা করালে এর নেপথ্যের কারণগুলো স্পষ্ট হয় এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা উচিত নয়।

মনে রাখবেন, চিকিৎসা এবং বিজ্ঞানের সহায়তায় অনেক কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। নিয়মিত চেকআপ আর সঠিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে আপনিও সুস্থ মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।