শ্বেতীর কি কোনও চিকিৎসা হয়? চিকিৎসকের কাছে ঠিক কখন যাবেন জেনে নিন

শ্বেতী (Vitiligo) বা ধবল রোগ সঠিক চিকিৎসায় সারানো বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (Autoimmune) সমস্যার কারণে ত্বকের রং উৎপাদনকারী কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে হয়। সময় মতো চিকিৎসায় এটি ছড়ানো রোধ করা যায়, তবে এটি ছোঁয়াচে নয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শ্বেতী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. শ্বেতী কি পুরোপুরি সারে?

শ্বেতী একটি নিরাময়যোগ্য রোগ, তবে এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী।

* প্রাথমিক পর্যায়ে: ছোট দাগ দ্রুত সারে।

* পুরানো দাগ: চিকিৎসায় সময় বেশি লাগে।

* চিকিৎসা পদ্ধতি: ক্রিম (Steroid creams), লাইট থেরাপি (Phototherapy), এবং কোনো কাজ না হলে অস্ত্রোপচার (Skin grafting) করা হয়।

২. রোগটি ছড়ানোর আগে লক্ষণ চেনার উপায় :

* ত্বকে দুধের মতো সাদা দাগ দেখা দেয়। * শুরুতে মুখ, হাত, পা বা যৌনাঙ্গে ছোট দাগ দেখা যায়। * চুল, চোখের দোররা বা ভ্রুর রং দ্রুত সাদা হয়ে যেতে পারে। * যদি দাগ দ্রুত বড় হতে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. ভুল ধারণা ও সত্যতা :

* ছোঁয়াচে নয়: শ্বেতী বা ধবল রোগ ছোঁয়াচে নয়, এটি একসাথে বসলে বা স্পর্শ করলে ছড়ায় না। * খাদ্যাভ্যাস: দুধ বা ভিটামিন সি (Vitamin C) খেলে শ্বেতী বাড়ে না। * কুষ্ঠরোগ নয়: শ্বেতী কোনোভাবেই কুষ্ঠরোগ বা চর্মরোগ (Infection) নয়। * মানসিক চাপ: মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা করলে রোগটি দ্রুত ছড়াতে পারে।

৪. শ্বেতী কেন হয়? (কারণ)

* অটোইমিউন রোগ: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুল করে ত্বকের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ (Melanocyte) নষ্ট করে দেয়। * বংশগত: পরিবারে কারো শ্বেতী থাকলে এটি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। * আঘাত: ত্বকে বড় কোনো আঘাত বা কাটাছেঁড়া থেকে দাগ শুরু হতে পারে।

৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি দেখেন শরীরের কোনো অংশের রং দ্রুত সাদা হয়ে যাচ্ছে, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। শুরুতেই চিকিৎসা শুরু করলে শরীরের বাকি অংশে রোগ ছড়ানো বা দাগ বৃদ্ধি পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব। সতর্কতা: শ্বেতীর চিকিৎসায় ধৈর্য প্রয়োজন। কবিরাজি বা অপচিকিৎসা থেকে দূরে থাকুন।