সাধারণ হাঁটার চেয়ে ৩ গুণ বেশি ক্যালোরি ঝরায় জাপানি ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং। এই পদ্ধতিতে ৩ মিনিট জোরে ও ৩ মিনিট ধীরে হাঁটতে হয়। এতে ওজন কমে, ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে থাকে ও বার্ধক্য ঠেকায়। জাপানিরা নানবা ওয়াক নামে আরও এক কৌশল ব্যবহার করে। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট এই হাঁটাই বদলে দেবে শরীর।

জাপানিদের গড় আয়ু বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। ১০০ বছর বাঁচা ওদের কাছে স্বাভাবিক। রোগভোগ ছাড়াই ফিট থাকার রহস্য কী? গবেষণা বলছে, এর পিছনে আছে ওদের বিশেষ হাঁটার কৌশল। সাধারণ হাঁটাহাঁটি নয়, একে বলে ‘ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং’। এই পদ্ধতিতে ওজন কমে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে আর ত্বকেও বয়সের ছাপ পড়ে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং কী? 

জাপানের শিনশু ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। নিয়ম খুব সহজ। প্রথমে ৩ মিনিট বেশ জোরে হাঁটতে হবে। এমন স্পিডে যাতে কথা বলতে একটু কষ্ট হয়। হার্ট রেট বাড়বে। ঠিক তারপর ৩ মিনিট আস্তে হাঁটুন। এই সময় শরীর রিল্যাক্স করবে। এই ৬ মিনিটের সাইকেল দিনে ৫ বার রিপিট করুন। মানে মোট ৩০ মিনিট। সপ্তাহে ৪ দিন করলেই যথেষ্ট।

কেন এত কার্যকরী?

 সাধারণ একটানা হাঁটার চেয়ে এই পদ্ধতিতে ৩ গুণ বেশি ফ্যাট বার্ন হয়। জোরে হাঁটার সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন ক্ষরণ হয় যা মেদ গলায় ও পেশি মজবুত করে। ধীরে হাঁটার সময় মাসল রিকভার করে। ফলে ব্লাড প্রেশার কমে, খারাপ কোলেস্টেরল LDL কমে ও ভালো কোলেস্টেরল HDL বাড়ে। সবচেয়ে বড় কথা, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়। তাই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৫০% পর্যন্ত কমে যায়।

নানবা ওয়াক: 

যৌবন ধরে রাখার টেকনিক জাপানিরা আরও এক কৌশল মানেন। নাম নানবা ওয়াক। আমরা হাঁটার সময় ডান হাত ও বাম পা একসাথে আগে ফেলি। কিন্তু নানবা ওয়াকে ডান হাত ও ডান পা একসাথে আগে যায়। বাম হাত ও বাম পা একসাথে। এতে শরীরের ভারসাম্য ভালো থাকে। কোমরে চাপ পড়ে না। হাঁটু ও গোড়ালির ব্যথা কমে। শিরদাঁড়া সোজা থাকে। ফলে বয়স হলেও কুঁজো হয়ে যেতে হয় না। সামুরাই যোদ্ধারা এই কায়দায় হাঁটত।

কীভাবে শুরু করবেন? খালি পেটে সকালে হাঁটবেন না। হালকা কিছু খেয়ে নিন। প্রথম সপ্তাহে দিনে ১৫ মিনিট করুন। ধীরে ধীরে ৩০ মিনিট করুন। জোরে হাঁটার সময় লম্বা শ্বাস নিন। নানবা ওয়াক অভ্যাস করতে সময় লাগবে। প্রথমে আস্তে আস্তে চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, জিমে ঘাম ঝরানোর দরকার নেই। দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের এই জাপানি কৌশলেই ওজন, সুগার, প্রেশার সব কন্ট্রোলে থাকবে। বয়স বাড়বে, কিন্তু বুড়ো হবেন না।