কাঞ্জি নামে পরিচিত এক পানীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি, পেটের রোগ ঠেকিয়ে রাখতেও এটি কাজ করে। কাঞ্জি পান করলে লিভার ভাল থাকবে, ত্বকের জেল্লাও ফিরবে।
পেটের রোগ, হজমের সমস্যা এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে ঐতিহ্যবাহী পানীয় 'কাঞ্জি' (Kanji) অত্যন্ত কার্যকরী। কালো গাজর, বিট, জল, সর্ষে বাটা ও মশলা দিয়ে তৈরি এই পানীয়টি প্রোবায়োটিক (Probiotic) সমৃদ্ধ। যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভার থেকে টক্সিন বের করে দেয় ।
কাঞ্জির স্বাস্থ্য উপকারিতা:
* প্রোবায়োটিক ও হজম ক্ষমতা: কাঞ্জি একটি ফারমেন্টেড পানীয়, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। এটি হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং আইবিএস (IBS)-এর মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
* লিভারের সুস্থতা: নিয়মিত কাঞ্জি পান করলে লিভার ভালো থাকে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) শক্তিশালী করে ।
* ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য: এটি শরীরের ফোলাভাব কমায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রেখে ত্বকের জেল্লা ফেরাতেও কাজ করে।
বিশেষ কাঞ্জি তৈরির পদ্ধতি (কালো গাজর/বিট দিয়ে):
১. উপকরণ: ১ লিটার জল, ৪-৫টি কালো গাজর বা বিট (ছোট করে কাটা), ১ চা চামচ সরষে গুঁড়ো, ১ চা চামচ কালো নুন, সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো।
২. পদ্ধতি: একটি কাঁচের জারে জলের সাথে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। জারের মুখটি একটি সুতির কাপড় দিয়ে বেঁধে ২-৩ দিন রোদে রাখুন যাতে এটি গাঁজানো (Fermented) বা টক স্বাদযুক্ত হয়
৩. সেবন: তৈরি হয়ে গেলে দিনে এক গ্লাস করে পান করুন।
৪. সাবধানতা: যাদের হিস্টামিন অসহনশীলতা (Histamine intolerance) বা সিবিও (SIBO) সমস্যা আছে, তাদের কাঞ্জি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এটি কোনও ওষুধের বিকল্প নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় যা সুষম খাবারের পাশাপাশি খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
