- Home
- Lifestyle
- Lifestyle Tips
- Brain Eating Amoeba: মানুষের 'মাথা খাওয়া' অ্যামিবা নিয়ে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জানুন রোগের লক্ষণ-বাঁচার উপায়
Brain Eating Amoeba: মানুষের 'মাথা খাওয়া' অ্যামিবা নিয়ে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জানুন রোগের লক্ষণ-বাঁচার উপায়
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ 'মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা' (brain-eating amoeba)-র সংক্রমণের হার বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতেও অনুরোধ করেছেন।

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ গ্রীষ্মকালে 'মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা' (brain-eating amoeba)-র সংক্রমণের হার বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতেও অনুরোধ করেছেন। এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে দূষিত জল দিয়ে স্নান করা বা মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্দেশ জারি করা হয়েছে যাতে এনসেফালাইটিসের লক্ষণযুক্ত রোগীদের অ্যামিবা সংক্রমণের পরীক্ষাও করা হয়। এই সংক্রমণ নাকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে আঘাত হানতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।"
'মস্তিষ্ক-ভোজী অ্যামিবা', যা 'নেগলেরিয়া ফাউলেরি' (Naegleria fowleri) নামেও পরিচিত, তা এক ধরণের বিরল মস্তিষ্কের সংক্রমণের সৃষ্টি করে, যার নাম 'অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস'। এই অ্যামিবা উষ্ণ ও অগভীর মিঠাজলের জলাশয়—যেমন হ্রদ ও নদীতে—বসবাস করে। যেসব মানুষ এই অ্যামিবা দ্বারা সংক্রমিত হন, তাঁদের 'প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস' (PAM) রোগটি দেখা দেয়। এটি এমন একটি সংক্রমণ যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
বিশ্বজুড়ে 'নেগলেরিয়া ফাউলেরি' সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর হার প্রায় ৯৯ শতাংশ; অন্যদিকে 'অ্যাকান্থামিবা' (Acanthamoeba) সম্পর্কিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকে। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কেরালা এই মৃত্যুর হার কমিয়ে প্রায় ২৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।"
PAM কী?
সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর তথ্যমতে, PAM হল 'নেগলেরিয়া ফাউলেরি' দ্বারা সৃষ্ট একটি বিরল মস্তিষ্কের সংক্রমণ। এই সংক্রমণ মস্তিষ্কের টিস্যুকে আক্রান্ত করে, যার ফলে মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ বা ফোলাভাব দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু ঘটে। অধিকাংশ মানুষই হ্রদ বা নদীর মতো মিঠাজলের জলাশয়ে সাঁতার কাটার পর PAM-এ আক্রান্ত হন। দূষিত জলের মাধ্যমেও এই অ্যামিবা শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তবে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এটি মনে রাখা জরুরি যে, দূষিত জল গিলে ফেললে বা পান করলে PAM রোগ হয় না।
PAM-এর লক্ষণসমূহ
- তীব্র জ্বর
- মাথায় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা
- বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
- শরীরে কাঁপুনি বা কম্পন
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া (Stiff neck)
- আলোর প্রতি চরম সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া)
- মানসিক বিভ্রান্তি
- কোমা বা অচৈতন্য অবস্থা
PAM-এর ঝুঁকির কারণসমূহ
- অধিকাংশ সংক্রমণ তখনই ঘটে, যখন মানুষ হ্রদ, পুকুর বা নদীর মতো উষ্ণ মিঠা জলে সাঁতার কাটে অথবা জলে তাদের মাথা ডুবিয়ে রাখে।
- দূষিত নলের জল (tap water) দিয়ে সাইনাস পরিষ্কার করার সময়ও PAM রোগটি হতে পারে। অত্যন্ত বিরল কিছু ক্ষেত্রে, মানুষ এমন সব বিনোদনমূলক জলাশয়—যেমন স্প্ল্যাশ প্যাড বা সার্ফ পার্ক—থেকে সংক্রমিত হয়েছে, যেখানে জলের ক্লোরিনের মাত্রা পর্যাপ্ত ছিল না।
PAM প্রতিরোধ
বিশেষ করে যেখানে জল স্থির থাকে—সেখানে 'নোজ প্লাগ' (নাক বন্ধ করার বিশেষ যন্ত্র) ব্যবহার না করে সাঁতার কাটবেন না, জলে নামবেন না বা কোনও জলক্রীড়ায় অংশ নেবেন না। যদি জানা থাকে যে কোনও জলাশয়ে Naegleria fowleri-এর উপস্থিতি রয়েছে অথবা থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে, তবে সেই জলে একেবারেই নামবেন না।
নাক পরিষ্কার করার অন্য কোনও যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য নলের জল ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র জীবাণুমুক্ত জল ব্যবহার করুন। যদি একান্তই নলের জল ব্যবহার করতে হয়, তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সেই জল অন্তত এক মিনিট ধরে ফুটিয়েছেন এবং এরপর তা ঠান্ডা করে নিয়েছেন।
জল থেকে জীবাণু দূর করার জন্য আপনি ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন। এমন সব ফিল্টার ব্যবহার করুন যাতে "NSF 53," "NSF 58" অথবা "absolute pore size of 1 micron or smaller" (১ মাইক্রন বা তার চেয়ে ছোট ছিদ্রযুক্ত) লেখা রয়েছে।
নাক ও সাইনাস পরিষ্কারের জন্য জলকে জীবাণুমুক্ত করতে আপনি তরল বা ট্যাবলেট আকারের ক্লোরিন ব্লিচও ব্যবহার করতে পারেন। জলে নামার পর যদি আপনার জ্বর বা মাথাব্যথার মতো কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, তবে আপনি ঠিক কোথায় গিয়েছিলেন—সে বিষয়টি আপনার চিকিৎসকের কাছে অবশ্যই উল্লেখ করবেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News