Healthcare: কেরলে শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে (Shigella Infection) চার বছরের শিশুর মৃত্যুর খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শিগেলা মানে "রক্ত আমাশা" বা ব্যাসিলারি ডিসেন্ট্রি। দূষিত জল-খাবার থেকেই ছড়ায়। বাচ্চা, বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে। পেট ব্যথা, রক্ত-আমাশা, জ্বর, এই লক্ষণ দেখলেই অবহেলা নয়। শিগেলা দ্রুত ডিহাইড্রেশন করে।

Kerala News: কেরলের একটা খবর এখন সব বাবা-মায়ের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে (Shigella Infection) মাত্র চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 'শিগেলোসিস' বা বাংলায় ‘রক্ত আমাশা’-নামটা শুনলেই গা শিউরে ওঠে। কারণ এই রোগটা ছোটদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। শিগেলা হল একটা ব্যাকটেরিয়া। দূষিত জল, বাসি খাবার, নোংরা হাতের ছোঁয়া লাগা খাবার খেলেই পেটে ঢুকে যায়। আর তারপর শুরু হয় তাণ্ডব। সাধারণ ডায়েরিয়া ভেবে অবহেলা করলে শরীরে জলের ঘাটতি, ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যালান্স নষ্ট হয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। তাই লক্ষণ জানা আর সময়ে ডাক্তার দেখানোই এখন একমাত্র ভরসা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শিগেলা সংক্রমণের সাতটি বিপজ্জনত লক্ষণ-একটাও দেখলে দেরি করবেন না

১. পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা আর ঘন ঘন পায়খানা সাধারণ পেট খারাপের মতো দু'তিন বার নয়। এক ঘণ্টায় পাঁচ-ছয় বারও হতে পারে। পেট কামড়ে ধরে, টয়লেট থেকে বেরোতেই পারছে না বাচ্চা।

২. পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা আমাশা এটাই শিগেলার 'সিগনেচার' লক্ষণ। পায়খানার রং লালচে, বা সঙ্গে সাদা-লাল আমাশার মতো স্লেষ্মা যাবে। একে 'ব্লাডি ডায়েরিয়া' বলে। এই লক্ষণ দেখামাত্রই বিপদ সংকেত।

৩. তীব্র জ্বর, ১০১°F এর ওপর জ্বর আসবেই। সঙ্গে গা হাত পা ব্যথা, বাচ্চা নেতিয়ে পড়বে। জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে ভয়ের।

৪. বমি আর কিছুই খেতে না পারা জল খেলেও বমি করে দিচ্ছে। মুখে খাবার দিলেই ছুঁড়ে ফেলছে। এর ফলে শরীর দ্রুত নেতিয়ে পড়ে।

৫. ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ এটাই সবচেয়ে ভয়ের। বাচ্চার চোখ বসে যাবে, ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে যাবে, ছয় ঘণ্টা প্রস্রাব হবে না, কান্নার সময় চোখে জল আসবে না, ত্বক টিপলে ভাঁজ পড়ে থাকবে। এই অবস্থা মানে শরীরে জল শেষ। সঙ্গে হাসপাতাল।

৬. খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বাচ্চা কথা বলছে না, ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না, শরীর ঝাঁকুনি দিচ্ছে – এগুলো 'Toxic megacolon' বা মস্তিষ্কে প্রভাবের লক্ষণ। এক সেকেন্ডও দেরি নয়।

৭. পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া পেট বেলুনের মতো ফুলে যাচ্ছে, ছুঁলেই বাচ্চা চিৎকার করছে – এটা জটিল অবস্থার ইঙ্গিত।

বাড়িতে কী করবেন আর কী করবেন না?

যা করবেন: 

১. ORS জল খাওয়ান: প্যাকেটের নিয়ম মেনে ORS বানিয়ে প্রতি পায়খানার পর ১০-২০ মিলি করে চামচে করে খাওয়ান। জল কম খেলে বমি কম হবে। 

২. বুকের দুধ/তরল খাবার চালু রাখুন: মায়ের দুধ বন্ধ করবেন না। ভাতের মাড়, ডালের জল, ডাবের জল দিতে পারেন। 

৩. হাত ধোয়া কড়া করুন: বাচ্চা, বড় সবাই খাওয়ার আগে-পরে সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। শিগেলা 'হাতের রোগ'। 

৪. আলাদা তোয়ালে-বাসন: আক্রান্তের বাসন, তোয়ালে আলাদা রাখুন। জীবাণু খুব দ্রুত ছড়ায়।

কী করবেন না: 

১. নিজে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না: দোকান থেকে ডায়েরিয়ার ওষুধ কিনে খাওয়াবেন না। শিগেলার চিকিৎসা ডাক্তারই ঠিক করবেন। ভুল ওষুধে রোগ বাড়ে। 

২. ওষুধ দিয়ে পায়খানা বন্ধ করবেন না: পায়খানা বন্ধ করার ওষুধ শিগেলার ক্ষেত্রে বিপদ ডাকে। ব্যাকটেরিয়া শরীরেই আটকে যায়। 

৩. বাইরের খাবার, কাটা ফল, আইসক্রিম বন্ধ: এখন দুই সপ্তাহ ঘরের খাবারই ভরসা। ফোটানো জল খান।

কখন হাসপাতালে ছুটবেন? 

ডাক্তাররা 'Red Flag' বলছেন এই তিনটেকে – ১. পায়খানায় রক্ত, ২. ৬ ঘণ্টা পস্রাব নেই, ৩. বাচ্চা নেতিয়ে পড়েছে, ডাকছে সাড়া দিচ্ছে না। এই তিনটের একটা দেখলেই অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। শিগেলায় দ্রুত IV স্যালাইন আর ডাক্তার দেখানো জরুরি।

শেষ কথা শিগেলা আতঙ্কের, কিন্তু সচেতনতার রোগ। পরিষ্কার জল, পরিষ্কার হাত, আর সন্দেহ হলেই ডাক্তার – এই তিনটে মেনে চললে ৯০% বিপদ আটকানো যায়।

কেরলের ঘটনা আমাদের সাবধান করছে। আপনার বাড়ির ছোটটির একটু জ্বর-পেট খারাপকেও হালকা ভাববেন না এই সময়। লক্ষণ দেখা দিলে গুগল নয়, ডাক্তারই শেষ কথা।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।