বাইরে বৃষ্টি আর ঘরে গরম খিচুড়ির গন্ধ। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে? বাংলার ভোগ থেকে কাশ্মীরি তাহেরি - ঘুরে আসুন ভারতের ৭ প্রান্তে, সাথে রইল সহজ রেসিপি। 

আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি। জানলার কাঁচে জলের ফোঁটা, রাস্তায় কাদা আর বাতাসে কেমন একটা ঠান্ডা-ঠান্ডা ভাব। এই আবহাওয়ায় মন খারাপ, শরীর আলসে আর পেটে খিদে। এই সময় এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি না হলে চলে? সাথে যদি থাকে ইলিশ ভাজা, আলু ভাজা, পাঁপড় আর একটুখানি আমের আচার, তাহলে তো কথাই নেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আমরা বাঙালিরা খিচুড়ি বলতে বুঝি পূজোর ভোগ। কিন্তু বিশ্বাস করুন, গোটা ভারত জুড়ে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির চল আলাদা আলাদা। একই চাল-ডাল, অথচ মশলার ছোঁয়ায় স্বাদ বদলে যায় একদম। চলুন আজ ভারতের ৭ প্রান্ত ঘুরে আসি আর জেনে নিই ৭ রকম খিচুড়ির গল্প আর ঘরে বানোর সহজ উপায়।

১. বাংলার ভোগের খিচুড়ি - (পশ্চিমবঙ্গ):

পূজো মানেই এই খিচুড়ি। ঘি আর গরম মশলার গন্ধে গোটা পাড়া ম ম করে।

কীভাবে বানাবেন: কড়াইতে ঘি গরম করে তেজপাতা, গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। মুগডাল হালকা ভেজে নিন। তারপর আদা বাটা, হলুদ, জিরে গুঁড়ো দিয়ে গোবিন্দভোগ চাল আর ডাল কষান। আলু, ফুলকপি, মটরশুঁটি দিয়ে দিন। পরিমাণ মতো জল দিয়ে প্রেসারে ২টো সিটি। নামানোর আগে ওপর দিয়ে আরও ঘি ছড়িয়ে দিন।

২. গুজরাটি খিচড়ি:

এটা একটু পাতলা, হালকা টক-মিষ্টি। পেটের জন্য খুব ভালো।

কীভাবে বানাবেন: প্রেসারে ঘি দিয়ে জিরে, হিং আর কারিপাতা ফোড়ন দিন। ধোয়া চাল আর মুগডাল দিয়ে একটু ভেজে নিন। এবার হলুদ, নুন আর এক চামচ দই দিয়ে দিন। ৩ কাপ জল দিয়ে ৩টে সিটি। ওপর দিয়ে ঘি আর ভাজা পাঁপড় দিয়ে পরিবেশন করুন।

৩. রাজস্থানি বাজরার খিচড়ি:

শরীর গরম রাখে, শীত আর বৃষ্টি দুই সময়েই পারফেক্ট।

কীভাবে বানাবেন: বাজরা ২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। কুকারে ঘি দিয়ে জিরে ফোড়ন দিন। ভেজানো বাজরা আর মুগডাল দিয়ে দিন। হলুদ, নুন, আদা বাটা দিয়ে ৪ কাপ জল দিয়ে ৪টে সিটি। রসুনের চাটনি দিয়ে গরম গরম খান।

৪. মহারাষ্ট্রিয়ান সাবুদানার খিচড়ি :

উপবাসেও চলে, আবার বিকেলের টিফিনেও জমে যায়।

কীভাবে বানাবেন: সাবুদানা ৪ ঘন্টা ভিজিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে চিনেবাদাম ভেজে তুলুন। ওই তেলেই জিরে, কারিপাতা আর কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিন। আলুর ছোট টুকরো ভেজে নিন। এবার ভেজানো সাবুদানা, সেদ্ধ বাদাম, নুন আর চিনি দিয়ে ৫ মিনিট ভাজুন। ওপর দিয়ে লেবুর রস আর ধনেপাতা।

৫. তামিলনাড়ুর পোঙ্গল:

দক্ষিণের কমফোর্ট ফুড। ঘি আর গোলমরিচের গন্ধেই অর্ধেক খাওয়া হয়ে যায়।

কীভাবে বানাবেন: কুকারে ঘি গরম করে গোটা গোলমরিচ, আদা কুচি আর কারিপাতা ফোড়ন দিন। চাল আর মুগডাল দিয়ে একটু ভেজে নিন। ৩ গুণ জল আর নুন দিয়ে ৩টে সিটি। সাথে নারকেল চাটনি আর সাম্বার।

৬. কাশ্মীরি তাহেরি:

এটা খিচুড়ি নয়, একদম রাজকীয় পোলাও। মিষ্টি-নোনতা স্বাদ।

কীভাবে বানাবেন: কড়াইতে ঘি গরম করে দারচিনি, এলাচ, তেজপাতা ফোড়ন দিন। বাসমতি চাল দিয়ে ভাজুন। এবার ফেটানো দই, জাফরান ভেজানো দুধ, নুন আর চিনি দিন। কিশমিশ আর কাজু ভেজে ওপরে ছড়িয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে দমে বসান ১৫ মিনিট।

৭. ওড়িশার দালমা খিচুড়ি:

পুরীর মন্দিরের প্রসাদ। পাঁচ রকম ডাল আর সবজির স্বাদ।

কীভাবে বানাবেন: মুগ, মসুর, ছোলা, অড়হর আর মটর ডাল একসাথে সেদ্ধ করুন। অন্য কড়াইতে ঘি দিয়ে পাঁচফোড়ন, আদা বাটা ফোড়ন দিন। আলু, কুমড়ো, বেগুন কেটে ভেজে নিন। সেদ্ধ ডাল আর চাল দিয়ে দিন। হলুদ, জিরে গুঁড়ো, গরম মশলা দিয়ে ঘন করে ফোটান। শেষে ঘি ছড়িয়ে দিন।

তাহলে দেখলেন তো, খিচুড়ি মানেই একঘেয়ে নয়। একেক রাজ্যে একেক গল্প। এবার বৃষ্টি নামলে শুধু ভোগের খিচুড়ি নয়, এই ৭টার মধ্যে ২-১টা বানিয়ে ফেলুন। স্বাদও বদলাবে, মনও ভালো হবে।