রোজ যে স্পঞ্জ দিয়ে বাসন মাজছেন, সেটাই আপনার রান্নাঘরের সবচেয়ে নোংরা জিনিস। রিসার্চ বলছে, টয়লেট সিটের থেকে ২০০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে একটা পুরনো স্পঞ্জে। ই-কোলাই, সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাকটর—ফুড পয়জনিং থেকে কিডনি ফেইলিওর পর্যন্ত হতে পারে।

বাথরুমের কমোড ফিনাইল দিয়ে রোজ ঘষি। কিন্তু রান্নাঘরের স্পঞ্জ? মাসের পর মাস একটাই চলছে। ভাবছেন সাবান-জল লাগে, ওটা তো পরিষ্কারই। এখানেই ভুল। জার্মানির এক স্টাডিতে দেখা গেছে, ১ সপ্তাহের পুরনো স্পঞ্জে ৫৪ বিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে প্রতি ঘন সেমি-তে। এর মধ্যে ৭০% মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী। মাছ-মাংসের রস, এঁটো ভাত, ভিজে স্যাঁতসেঁতে ভাব—ব্যাকটেরিয়ার ফাইভ-স্টার হোটেল। এবার ভাবুন, সেই স্পঞ্জ দিয়েই কাচের গ্লাস, খাবার প্লেট মুছছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*১. কমোড vs স্পঞ্জ: নোংরামির চ্যাম্পিয়ন কে?*

অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. চার্লস গারবার রিসার্চে দেখিয়েছেন, একটা টয়লেট সিটে গড়ে ১০ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া থাকে। আর ২ সপ্তাহের পুরনো কিচেন স্পঞ্জে থাকে ১০ কোটির বেশি। এর কারণ সিম্পল। কমোড শুকনো থাকে, ফ্লাশ হয়। স্পঞ্জ সবসময় ভিজে, খাবারের কণা লেগে থাকে, গরম রান্নাঘর। ২০-৪০°C তাপমাত্রা আর ময়েশ্চার—ব্যাকটেরিয়া ২০ মিনিটে ডাবল হয়। তাই স্পঞ্জ হল ‘ব্যাকটেরিয়া বোমা’।

*২. কী কী রোগ ছড়ায়? লিস্ট শুনলে শিউরে উঠবেন*

*ক. ফুড পয়জনিং:* ই-কোলাই, সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাকটর। কাঁচা মাংস, ডিমের ট্রে মুছে সেই স্পঞ্জ দিয়ে বাচ্চার দুধের বাটি মাজলেন। ২ ঘণ্টায় ডায়রিয়া, বমি, ১০৪ জ্বর। বাচ্চা-বয়স্কদের হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়।

*খ. স্কিন ইনফেকশন:* স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস। বাসন মাজতে গিয়ে হাতে কাটা থাকলে ওখান দিয়ে ঢুকে ঘা, পুঁজ হয়।

*গ. ক্রনিক ইনফ্লেমেশন ও ক্যানসার রিস্ক:* টাটা মেমোরিয়ালের অনকোলজিস্ট ডা. রজত সান্যাল বলছেন, “বারবার কম মাত্রায় ই-কোলাই, হেলিকোব্যাকটর পেটে গেলে ইনটেস্টাইনে ক্রনিক ইনফ্লেমেশন হয়। ১০-১৫ বছর ধরে চললে কোলন ক্যানসারের রিস্ক ৩ গুণ বাড়ে।” স্পঞ্জ নিজে ক্যানসার করে না, কিন্তু রাস্তা তৈরি করে দেয়। IARC সালমোনেলাকে ‘পসিবল কার্সিনোজেন’ লিস্টে রেখেছে।

*৩. আপনার স্পঞ্জ বিপদসীমা পার করেছে? ৪টা লক্ষণ চেক করুন*

১. *গন্ধ:* টক বা পচা গন্ধ মানেই ব্যাকটেরিয়া কলোনি বানিয়েছে।

২. *রং:* কালো, সবুজ ছোপ = ফাঙ্গাস।

৩. *টেক্সচার:* ভেঙে যাচ্ছে, পাতলা হয়ে গেছে মানে ফাইবারে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে গেছে।

৪. *বয়স:* ৭ দিনের বেশি ইউজ করছেন? ডাস্টবিনে ফেলুন। দাম ১০ টাকা, হাসপাতাল বিল ১০ হাজার।

*৪. স্পঞ্জকে জীবাণুমুক্ত করার ৩টে সায়েন্টিফিক উপায়*:

*ক. মাইক্রোওয়েভ মেথড:* স্পঞ্জ ভিজিয়ে মাইক্রোওয়েভে হাই পাওয়ারে ১ মিনিট গরম করুন। ৯৯.৯% জীবাণু মরে। শুকনো স্পঞ্জ দেবেন না, আগুন ধরে যাবে।

*খ. ফুটন্ত জল:* রাতে কাজ শেষে স্পঞ্জ ফুটন্ত জলে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

*গ. ব্লিচ সলিউশন:* ১ লিটার জলে ১ চামচ ব্লিচ। ৫ মিনিট ভিজিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।

নিয়ম: রোজ রাতে জীবাণুমুক্ত করুন আর সপ্তাহে ১ বার ফেলে দিন। ফ্যামিলিতে বাচ্চা, প্রেগন্যান্ট বা ক্যানসার পেশেন্ট থাকলে ৩ দিন পর পর পাল্টান।

*৫. স্পঞ্জের বদলে কী ইউজ করবেন? ৩টে সেফ অপশন*

*ক. সিলিকন স্ক্রাবার:* নন-পোরাস, ব্যাকটেরিয়া ঢোকে না। ডিশওয়াশারে ধুয়ে নেওয়া যায়। ৬ মাস চলে।

*খ. বাঁশের ব্রাশ:* ন্যাচারাল, তাড়াতাড়ি শুকায়। ১ মাস পর পর পাল্টান।

*গ. ডিশ ক্লথ:* পাতলা সুতির কাপড়। রোজ ইউজের পর গরম জল-সাবানে কেচে রোদে শুকান।

আর স্পঞ্জ ইউজ করলেও কাজ ভাগ করুন। বাসনের স্পঞ্জ আলাদা, বেসিন মোছার আলাদা, গ্যাস টপের আলাদা।

*৬. কিচেনের আরও ৩টে ‘সাইলেন্ট কিলার’ জায়গা*

স্পঞ্জ ছাড়াও কিচেন টাওয়েল, কাটিং বোর্ড, সিঙ্কের নেটে লক্ষ লক্ষ জীবাণু থাকে। টাওয়েল ২ দিন পর পর কাচুন। কাঁচা মাছ-মাংস আর সবজির বোর্ড আলাদা রাখুন। সিঙ্কে রোজ গরম জল ঢালুন। মনে রাখবেন, পরিষ্কার রান্নাঘর মানে শুধু ঝকঝকে স্ল্যাব না, জীবাণুমুক্ত স্ল্যাব।

আমরা ৫০০ টাকার ফল কিনে ধুয়ে খাই, কিন্তু ১০ টাকার স্পঞ্জ পাল্টাই না। অথচ ওটাই সব রোগের এন্ট্রি গেট। আজই পুরনো স্পঞ্জ ফেলুন। মাইক্রোওয়েভ করুন বা নতুন কিনুন। অনকোলজিস্টরা বলছেন, ক্যানসার প্রিভেনশন শুরু হয় রান্নাঘর থেকে। আপনার পরিবারের সুস্থতা আপনার হাতে।

এই আর্টিকেল সাধারণ সচেতনতার জন্য। কিচেন স্পঞ্জ সরাসরি ক্যানসার করে না, কিন্তু এতে থাকা জীবাণু ক্রনিক ইনফ্লেমেশন করে ক্যানসারের রিস্ক ফ্যাক্টর বাড়াতে পারে। ডায়রিয়া, জ্বর ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকলে ডাক্তার দেখান। কোনও লক্ষণে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শই শেষ কথা।