দীপাবলি ও কালীপুজোর আলোর রোশনাইয়ের আড়ালে ভয়ঙ্কর বিষে ঢাকলো কলকাতা। এক রাতের বাজির ধোঁয়ায় কলকাতার বাতাসে দূষণের মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছল, যা ২০টি সিগারেট খাওয়ার সমান! AQI ৩০০ পার করে গেল শহরের একাধিক জায়গায়। বিস্ফোরক রিপোর্টে উদ্বেগ চিকিৎসকদের।

কালীপুজোর রাতে আলোয় সেজে উঠেছিল গোটা কলকাতা। কিন্তু সেই আলোর উৎসবের পরের দিনই সামনে এল আতঙ্কের ছবি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট বলছে, কালীপুজোর রাতে কলকাতার বাতাসে PM 2.5 এর মাত্রা ২৫০-৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি। পরিবেশবিদদের দাবি, এই মাত্রার দূষিত বাতাসে একদিন শ্বাস নেওয়া মানে ২০টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি।

*কোথায় কত AQI ছিল?*

রিপোর্ট অনুযায়ী, কালীপুজোর রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৪টে পর্যন্ত কলকাতার দূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।

*১. রবীন্দ্র সরোবর ও যাদবপুর:* AQI ৩২০, যা Severe ক্যাটাগরিতে পড়ে।

*২. পার্ক স্ট্রিট ও বালিগঞ্জ:* AQI ২৯৫-৩০৫

*৩. সল্টলেক ও নিউটাউন:* AQI ২৮০

*৪. হাওড়া ও বেলুড়:* AQI ৩১০

সাধারণত AQI ৫০-এর নিচে থাকলে তাকে ভালো ধরা হয়। ১০০-র উপর গেলেই শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আর ৩০০ পার মানে সবার জন্য বিপজ্জনক।

*২০টা সিগারেটের হিসেব কীভাবে?*

চিকিৎসকরা বলছেন, একটি সিগারেটে প্রায় ১০-১২ মাইক্রোগ্রাম PM 2.5 শরীরে ঢোকে। কালীপুজোর রাতে কলকাতার বাতাসে PM 2.5 ছিল ২৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে। একজন মানুষ দিনে গড়ে ২০ ঘনমিটার বাতাস শ্বাস নেন। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টায় শরীরে ঢুকেছে প্রায় ২০টি সিগারেটের সমান বিষ। এর সঙ্গে ছিল সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস।

*চিকিৎসকরা কী বলছেন?*

পালমোনোলজিস্টদের মতে, এই দূষণের ফলে আগামী ১ সপ্তাহ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, অ্যালার্জি, হার্টের সমস্যা নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা ৩০% বেড়ে যাবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাস্ক ব্যবহার ও বাইরে বেরোনো এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।