অফিস হোক বা বাড়ি, এখন সবার সঙ্গী ল্যাপটপ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ। আর তারপরই শুরু হয় ঘাড়ে শক্ত ভাব, কাঁধে অসহ্য যন্ত্রণা, পিঠে টান এবং অনেক সময় মাথা যন্ত্রণাও। আপনি ভাবছেন সামান্য ব্যথা, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন এই অভ্যাসই ডেকে আনছে টেক নেক (Tech Neck) নামে নতুন রোগ।

অফিস হোক বা বাড়ি, এখন সবার সঙ্গী ল্যাপটপ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ। আর তারপরই শুরু হয় ঘাড়ে শক্ত ভাব, কাঁধে অসহ্য যন্ত্রণা, পিঠে টান এবং অনেক সময় মাথা যন্ত্রণাও। আপনি ভাবছেন সামান্য ব্যথা, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন এই অভ্যাসই ডেকে আনছে টেক নেক (Tech Neck) নামে নতুন রোগ।

আসল ভুলটা কোথায় হচ্ছে?

আমরা যখন ল্যাপটপ টেবিলে রেখে কাজ করি, তখন স্ক্রিনটা থাকে চোখের অনেক নিচে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘাড় ৪৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি নিচু হয়ে যায়। আপনি জানেন কি, আমাদের মাথার ওজন প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি। ঘাড় সোজা থাকলে এই ওজনই থাকে। কিন্তু ঘাড় ১৫ ডিগ্রি ঝুঁকলে চাপ বেড়ে হয় ১২ কেজি, ৪৫ ডিগ্রি ঝুঁকলে ২২ কেজি এবং ৬০ ডিগ্রি ঝুঁকলে প্রায় ২৭ কেজি চাপ পড়ে ঘাড়ের হাড় ও মাসলের ওপর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই চাপ সহ্য করতে করতে মাসল স্টিফ হয়ে যায়, রক্ত চলাচল কমে যায়।

প্রথমে শুধু ব্যথা মনে হলেও, ধীরে ধীরে এর থেকে সার্ভাইকাল স্পন্ডাইলোসিস, ঘাড়ের ডিস্ক সরে যাওয়া, হাতে ঝিনঝিন ও অসাড় ভাব, এমনকি মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে।

এখনই কীভাবে বাঁচবেন?

১. স্ক্রিনের উচ্চতা বাড়ান: ল্যাপটপ কখনই সরাসরি টেবিলে রেখে কাজ করবেন না। একটি ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন, বা কয়েকটা মোটা বইয়ের ওপর রাখুন। স্ক্রিনের ওপরের অংশ যেন আপনার চোখের সমান উচ্চতায় থাকে। এর সঙ্গে একটি আলাদা কিবোর্ড এবং মাউস ব্যবহার করুন, এতে হাতের পজিশনও ঠিক থাকবে।

২. চেয়ার ও বসার ভঙ্গি: চেয়ারে পিঠ সোজা রেখে, কোমরের পিছনে একটি ছোট কুশন দিয়ে বসুন। কনুই ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে, কাঁধ রিল্যাক্স থাকবে, পা দুটো মাটিতে সমানভাবে রাখুন। কুঁজো হয়ে বা একদিকে হেলে বসবেন না।

৩. ৩০-৩০ নিয়ম মানুন: প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ৩০ সেকেন্ডের ব্রেক নিন। উঠে দাঁড়ান, ঘাড় ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে ধীরে ধীরে ঘোরান। কাঁধ ৫ বার সামনে ও পিছনে রোল করুন। চোখ বন্ধ করে দুবার গভীর শ্বাস নিন।

৪. রাতে ঘুমের অভ্যাস: খুব উঁচু বা শক্ত বালিশ ব্যবহার করবেন না। কাজের পর গরম সেঁক বা হালকা স্ট্রেচিং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন, এই ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। যদি ব্যথা কাঁধ থেকে হাতে ছড়িয়ে পড়ে, হাতে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব লাগে, রাতে ব্যথা বাড়ে বা কয়েকদিন বিশ্রামেও না কমে, তাহলে অবশ্যই একজন অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।