বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে, আর শীত পড়লেই মন ছোটে পাহাড়ে। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের ভিড় এড়িয়ে যদি একটু অন্যরকম, একটু বেশি শীতের আমেজ চান, তাহলে আপনার লিস্টে থাকুক লুনসেল। কালিম্পং জেলার একেবারে গভীরে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট লেপচা গ্রাম, যেখানে মেঘ, জঙ্গল আর ইতিহাস মিলেমিশে একাকার।

শীতে আরও একটু শীতকালীন জায়গায় যেতে চাইছেন? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আপনার এবারের অফবিট ভ্রমণের তালিকায় রাখতে পারেন লুনসেল (Lungsel)। কালিম্পং শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরে, গরুবাথান ব্লকের কাছে এই গ্রাম। নামটাই ভারী মজার। লেপচা ভাষায় 'Long' মানে পাথর আর 'Syol' মানে ছড়িয়ে থাকা। চারদিকে পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা পাথরের মাঝে সমতল এক টুকরো জমিতে বসে আছে এই গ্রাম।

কেন যাবেন? এই গ্রামকে বলা হয় লেপচাদের আদি বাসভূমি। লোককথা অনুযায়ী, লেপচাদের শেষ রাজা Pano Gaeboo Achyok-এর জন্মস্থান এই লুনসেল। গ্রামের ওপরে Chyakung পাহাড়ের চূড়ায় আজও আছে সেই ঐতিহাসিক দুর্গ 'Chyakung Gree'। ১৭ শতকে ভুটানিদের আক্রমণ রুখতে এই দুর্গ বানিয়েছিলেন রাজা। ট্রেক করে ওপরে উঠলে পুরো কালিম্পং ভ্যালির ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাবেন।

কী করবেন এখানে?

১. Kursong Ecostay-তে থাকা: এখানে কোনও বড় হোটেল নেই, আছে পাহাড়ি ইকো-স্টে। চারদিকে ঢাল, মাঝে সমতলে কটেজ - একদম ছবির মতো। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে।

২. Lepcha Trails: স্থানীয় গাইডদের সঙ্গে লেপচা গ্রাম, জঙ্গল ট্রেইল, Dalim Fort বা লুকানো ঝরনা দেখতে যেতে পারেন।

৩. নিস্তব্ধতাকে উপভোগ: এখানে কোনও সাইটসিয়িং-এর তাড়া নেই। সারাদিন কুয়াশা, পাইন বন, আর রাতে ভরা আকাশের তারা - এটাই আসল লাক্সারি।

কীভাবে যাবেন, কখন যাবেন?

শিয়ালদা/হাওড়া থেকে ট্রেনে NJP, তারপর গাড়িতে কালিম্পং - লাভা হয়ে গরুবাথান, সেখান থেকে লুনসেল। লাভা থেকে দূরত্ব মাত্র ১৬ কিমি। শেষ কয়েক কিমি রাস্তা একটু কাঁচা, তাই ছোট গাড়ির বদলে বড় গাড়ি নেওয়াই ভালো।

থাকার জন্য Homestay বা Kursong Ecostay আগে থেকে বুক করতে হবে। খরচ দিনপ্রতি ১৫০০-২০০০ টাকা থাকা-খাওয়া নিয়ে।

শীতকাল, মানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি হল লুনসেল যাওয়ার সেরা সময়। তখন আকাশ পরিষ্কার, কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউও পেতে পারেন। আর পাবেন কনকনে ঠান্ডার আসল মজা। তাহলে এবার শীতে ভিড় নয়, চলুন হারিয়ে যাই লুনসেলে।