হোটেলের ঘরে রাখা চটি শুধু দেখানোর জন্য নয়। হাইজিন, সেফটি আর আরাম — এই তিন কারণেই হোটেল আপনাকে চটি দেয়। খালি পায়ে হাঁটলে কী বিপদ হতে পারে জানুন।
হোটেলে চেক-ইন করেই অনেকেই জুতো খুলে খালি পায়ে ঘরময় হাঁটতে শুরু করেন। নরম কার্পেট আর ঝকঝকে মেঝে দেখে মনে হয় সবই পরিষ্কার। কিন্তু হাউসকিপিং টিম বলছে, এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। বিছানার পাশে রাখা চটি জোড়া সৌখিনতার জন্য নয়। এর পেছনে রয়েছে খুব বাস্তব ৩টি কারণ।
হাইজিনের কারণেই প্রথম দরকার চটি : আপনি যে ঘরে থাকছেন, তার আগে সেখানে কত মানুষ থেকেছে তার হিসেব নেই। রোজ ঝাড়পোঁছ হলেও কার্পেটের ভেতরে, টাইলসের ফাঁকে এ ধুলো, ব্যাকটেরিয়া আর ফাঙ্গাস থেকে যায়। বাথরুম থেকে আসা জলও মেঝেতে লেগে থাকতে পারে। খালি পায়ে হাঁটলে পায়ে অ্যাথলেটস ফুট বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। হোটেলের চটি তাই একটা প্রোটেকশন লেয়ার হিসেবে কাজ করে। বেশিরভাগ ভালো হোটেলে ব্যবহারের পর এই চটি ফেলে দেওয়া হয় বা ভালো করে স্যানিটাইজ করা হয়।
নিরাপত্তা আর ঠান্ডা থেকে বাঁচাতেও চটি জরুরি রাতের বেলা ঘুম ভেঙে অন্ধকারে বাথরুমে যাওয়ার সময় পায়ে কাঁচ, পিন বা গরম কিছু পড়ে থাকতে পারে। কার্পেটের নিচে ছোট পেরেকও থাকা অসম্ভব নয়। একজোড়া চটি এই ছোটখাটো দুর্ঘটনা থেকে আপনাকে বাঁচাবে। আবার এসি চলা ঘরের মার্বেল বা টাইলসের মেঝে রাতের দিকে খুব ঠান্ডা হয়ে যায়। খালি পায়ে হাঁটলে সহজেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। চটি পায়ের উষ্ণতা ধরে রাখে এবং লম্বা জার্নির পর পাকে আরাম দেয়।
যে দুটো ভুল বেশিরভাগ মানুষ করেন প্রথম ভুল হল রুমের চটি পরে বাথরুমে ঢোকা। মনে রাখবেন, রুমের চটি আর বাথরুমের স্লিপার আলাদা। বাথরুমের জন্য হোটেল আলাদা রাবারের স্লিপার দেয়। রুমের চটি ভিজে গেলে সেটাতে ফাঙ্গাস হওয়ার চান্স থাকে। দ্বিতীয় ভুল হল চটি ব্যাগে করে বাড়ি নিয়ে আসা। এগুলো হোটেলের প্রপার্টি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিঙ্গেল ইউজের জন্য দেওয়া হয়। নিয়ে আসাটা ঠিক নয়।
তাই পরের বার হোটেলে গেলে চটিকে আর অবহেলা করবেন না। এটা শুধু আরামের জন্য নয়। এটা আপনার পায়ের হাইজিন, সেফটি আর আরাম — তিনটেরই গ্যারান্টি। বাজেট হোটেলে চটি খুব পাতলা হলে নিজের একটা হালকা ফ্লিপ-ফ্লপ সাথে রাখাই সবচেয়ে ভালো।
