গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ঘরের রঙ, আসবাব আর দিক সঠিক রাখা জরুরি। বাস্তু মতে এই ৭টি নিয়ম মানলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে।

নতুন অতিথি আসার খবর মানেই বাড়িতে খুশির হাওয়া। কিন্তু এই ৯ মাস হবু মায়ের শরীর ও মন দুটোই খুব সেনসিটিভ থাকে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, ঘরের পরিবেশ সরাসরি আমাদের মানসিক শান্তি আর শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। তাই এই সময় ঘরের সাজে ছোট ছোট বদল আনলেই হবু মা থাকবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত।

কোন দিকে শোবেন হবু মা? ঘুমের ঘরের বাস্তু:

১. শোয়ার দিক পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম বাস্তু মতে গর্ভবতী মহিলাদের মাথা দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে রেখে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো। এতে ঘুম ভালো হয় এবং মানসিক চাপ কমে। কখনোই উত্তর দিকে মাথা করে শোবেন না।

২. ঘরে ভারী আসবাব নয়: খাটের তলায় বা ঘরের কোণে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না। এতে নেগেটিভ এনার্জি আটকে যায়। ঘর পরিষ্কার ও খোলামেলা রাখুন। বিছানার চারপাশে যেন সহজে হাঁটাচলা করা যায়।

রঙ আর আলো কেমন হবে?

৩. হালকা ও ঠান্ডা রঙ বেছে নিন: ঘরের দেওয়ালে গাঢ় লাল, কালো বা গাঢ় বেগুনি রঙ একদম নয়। এর বদলে হালকা গোলাপি, আকাশি নীল, পিচ, সাদা বা হালকা সবুজ রঙ ব্যবহার করুন। এই রঙগুলো মন শান্ত রাখে এবং উদ্বেগ কমায়।

৪. প্রচুর প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস : ঘরে যেন সকালের রোদ ঢোকে। পর্দা সরিয়ে জানালা খোলা রাখুন। বদ্ধ ঘরে অক্সিজেন কমে গেলে হবু মায়ের মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি হতে পারে।

কী রাখবেন, কী রাখবেন না?

৫. প্রকৃতির ছোঁয়া দিন : ঘরে ২-৩ টে মানি প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা বা পাতাবাহার গাছ রাখুন। গাছ অক্সিজেন দেয় এবং পজিটিভ এনার্জি আনে। তবে কাঁটাযুক্ত গাছ যেমন ক্যাকটাস ঘরে রাখবেন না।

৬. ধারালো জিনিস ও ভাঙা জিনিস নয়: বেডরুমে কাঁচি, ছুরি বা অন্য ধারালো জিনিস খোলা রাখবেন না। একইভাবে ফাটা আয়না, বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়িও ঘরে রাখা বাস্তু মতে অশুভ।

৭. শান্ত ছবি ও পজিটিভ ছবি টাঙান: ঘরের দেওয়ালে কৃষ্ণ-রাধা, মা লক্ষ্মী বা হাসিখুশি বাচ্চার ছবি টাঙাতে পারেন। হিংস্র জন্তু বা যুদ্ধের ছবি এড়িয়ে চলুন। এগুলো মনে অস্থিরতা তৈরি করে।

রান্নাঘর ও টয়লেটের জন্য ২টো বিশেষ টিপস: রান্নাঘর: গ্যাস ওভেন যেন দক্ষিণ-পূর্ব কোণে থাকে। হবু মা রান্না করার সময় মুখ যেন পূর্ব দিকে থাকে। টয়লেট: টয়লেটের দরজা যেন সবসময় বন্ধ থাকে। টয়লেটের সামনে আয়না রাখবেন না।

গর্ভাবস্থা মানেই নিয়মের বেড়াজাল নয়। এগুলো ছোট ছোট অভ্যাস যা আপনার মনকে শান্তি দেবে।

সবচেয়ে বড় কথা, ঘর যেন পরিষ্কার, আলো-বাতাসযুক্ত আর ভালোবাসায় ভরা থাকে। মা ভালো থাকলেই তো বাচ্চা ভালো থাকবে।