ভারী মেকআপ করলেই বয়স কমে না, বরং বয়সের ছাপ আরও স্পষ্ট হয়। বয়স লুকাতে চাইলে দরকার সঠিক কৌশল। হালকা বেস, সঠিক জায়গায় হাইলাইট, লিপস্টিকের শেড – এই ৩ ছোট ছোট ট্রিকেই মুখের জেল্লা ফিরবে, চোখ-মুখ টানটান দেখাবে। মাত্র ১০ মিনিটের ঝটিতি মেকআপেই আপনি ৫ বছর কম দেখাবেন।
বয়স বাড়ার সাথে স্কিনে ফাইন লাইন, ডার্ক সার্কেল, ন্যাচারাল গ্লো কমে যায় – এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মেকআপের ভুল কৌশলের জন্য ৩৫ এও ৪৫ লাগতে পারে। আবার সঠিক ট্রিক জানলে ৪৫ এও ৩৫ দেখানো সম্ভব। মেকআপের কাজ মুখ ঢাকা নয়, মুখের সেরা ফিচারটাকে তুলে ধরা। তাই ঝটিতি সাজেই বয়স কমাতে এই ৬টি কৌশল ফলো করুন।

প্রথম কৌশল হল স্কিন প্রেপ। বয়স বাড়লে স্কিন শুষ্ক হয়ে যায়। শুষ্ক স্কিনে ফাউন্ডেশন বসলে কেকি লাগে, ফাইন লাইনে কেটে বসে। তাই মেকআপের আগে ফেসওয়াশের পর হায়ালুরনিক অ্যাসিড সিরাম আর ময়েশ্চারাইজার মাস্ট। ২ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর প্রাইমার লাগান। প্রাইমার স্কিনের ছোট ছোট লাইন ভরাট করে দেয়। মেকআপ বসবে মসৃণ, বয়সের ছাপ কম দেখাবে।
দ্বিতীয় কৌশল বেস মেকআপে। ম্যাট, ভারী ফাউন্ডেশন একদম না। বয়সের পর স্কিনের দরকার আলো। তাই ডিউই বা সাটিন ফিনিশের লাইটওয়েট ফাউন্ডেশন বা BB ক্রিম বেছে নিন। আঙুল বা ভেজা বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে ট্যাপ ট্যাপ করে বসান। বেশি ঘষবেন না। কনসিলার শুধু চোখের নিচের কালি আর ঠোঁটের কোণের ডার্ক স্পটে দিন। পুরো মুখে মোটা করে কনসিলার দিলে লাইন আরও গভীর দেখাবে।
তৃতীয় কৌশল হল জায়গা বুঝে হাইলাইট আর কন্টুর। বয়সের ছাপ পড়ে গাল ঝুলে যাওয়া আর চোখ ছোট দেখানোয়। তাই গালের হাড়ের ওপর, নাকের ডগায়, ভ্রুর হাড়ের নিচে আর ঠোঁটের ওপরের কিউপিডস বো-তে ক্রিম হাইলাইটার দিন। এটা আলো ধরে রাখবে, মুখ টানটান দেখাবে। কন্টুর করলে খুব হালকা, শুধু চোয়ালের লাইন বরাবর। ভারী কন্টুর বয়স আরও বাড়িয়ে দেয়।
চতুর্থ কৌশল চোখের সাজে। বয়স বাড়লে চোখের পাতা ঝুলে যায়। তাই ডার্ক, ম্যাট আইশ্যাডো পুরো পাতায় দেবেন না। শুধু চোখের বাইরের V-তে হালকা বাদামি শেড দিন, আর ভেতরের কোণে শ্যাম্পেন বা হালকা সোনালি শিমার দিন। এতে চোখ বড় আর জ্বলজ্বলে দেখাবে। আইলাইনার একদম পাতলা করে ল্যাশ লাইনের গোড়ায় দিন, টেনে বাইরে উইং করবেন না। নিচের ল্যাশ লাইনে কাজল না দেওয়াই ভালো, এতে চোখ ছোট দেখায়। মাস্কারা লাগানোর আগে আইল্যাশ কার্লার দিয়ে পাপড়ি একটু কার্ল করে নিন।
পঞ্চম কৌশল ভ্রু আর গালে। বয়সের সাথে ভ্রুর লোম পাতলা হয়। তাই পেন্সিল দিয়ে ভ্রুর ফাঁকা জায়গা হালকা করে ভরাট করুন। খুব ডার্ক আর বক্স শেপের ভ্রু বয়স বাড়ায়। ন্যাচারাল, একটু উপরের দিকে তোলা শেপ রাখুন। ব্লাশ লাগাবেন গালের আপেল অংশে, কানের দিকে টেনে। এতে ফেস লিফটেড লুক আসবে। ডার্ক প্লাম বা বাদামি ব্লাশ বাদ দিন, পিচ বা হালকা গোলাপি বেছে নিন।
ষষ্ঠ এবং শেষ কৌশল ঠোঁটে। বয়সের সাথে ঠোঁট পাতলা হয়ে যায়, রংও ফিকে হয়। তাই ডার্ক ম্যাট লিপস্টিক একদম না। ন্যুড, পিচ, গোলাপি, কোরাল – এই শেডগুলো মুখে সতেজতা আনে। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটে লিপ বাম দিন। তারপর লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁটের লাইন একটু বাড়িয়ে আউটলাইন করুন। মাঝে ক্রিমি লিপস্টিক দিন, শেষে মাঝখানে একটু গ্লস। ঠোঁট ফোলা ফোলা দেখাবে।
মনে রাখবেন, মেকআপ মানেই ১০ লেয়ার প্রোডাক্ট নয়। বয়স লুকাতে চাইলে "কমই বেশি"। স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখুন, হালকা প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন আর আলো ধরার জায়গাগুলো হাইলাইট করুন। এই কৌশলগুলো প্র্যাকটিস করলে মাত্র ১০ মিনিটেই আপনি ঝরঝরে, নজরকাড়া লাগবেন। বয়সটা সংখ্যা মাত্র, জেল্লাটা আসল।


