এপ্রিল-মে মানেই ৪০ ডিগ্রি। রোদে ৫ মিনিট হাঁটলেই মুখ ঘেমে চপচপে। ফাউন্ডেশন গলে গাল বেয়ে নামে, কাজল লেপ্টে ভূত, লিপস্টিক খেয়ে ফেলা যায়। বিয়ে-বাড়ি, অফিস, ডেট—সাজতে তো হবেই। কিন্তু কী মাখলে সাজ টিকবে আর কী বাদ দিলে ব্রণ হবে না? গরমে মেকআপের আসল খেলা হল ‘লেস ইজ মোর’।

ফ্যানের তলায় বসেও ঘামছেন। বাইরে বেরোলে তো কথাই নেই। মুখ-পিঠ দিয়ে দরদর করে ঘাম। তার উপর মেকআপ করলে মুখে যেন কেক বসিয়ে দিয়েছে মনে হয়। ১০ মিনিটেই ফাউন্ডেশন ফেটে যায়, নাকের পাশে জমে থাকে, টি-জোন তেলতেলে হয়ে চকচক করে। এই গরমে মোটা মেকআপ মানেই স্কিনের ১২টা বাজানো। ব্রণ, র‍্যাশ, ব্ল্যাকহেডস গ্যারান্টি। তাহলে কি সাজব না? সাজবেন। কিন্তু স্মার্টলি। প্রোডাক্ট বাছুন বুঝে। কোনটা মাখবেন আর কোনটা এই ৩ মাসের জন্য লকারে তুলে রাখবেন, তার ফুল গাইড।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বাদ দিন হেভি ফাউন্ডেশন, আনুন টিন্টেড সানস্ক্রিন গরমে ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন মানেই স্কিনের শ্বাস বন্ধ করা। ঘামের সাথে মিশে পোরস ব্লক করবে। ব্রণ হবেই। তার বদলে টিন্টেড সানস্ক্রিন বা বিবি ক্রিম মাখুন। SPF 50, PA+++ দেখে কিনুন। এটা সান প্রোটেকশনও দেবে, হালকা কভারেজও দেবে। জেল বেসড বা ওয়াটার বেসড হলে বেস্ট। ম্যাট ফিনিশ চাইলে উপরে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার দিয়ে ড্যাব করুন। মনে রাখবেন, গরমে ‘নো মেকআপ’ মেকআপ লুকই সবচেয়ে ক্লাসি।

অয়েল বেসড প্রোডাক্ট একদম না, লাগান জেল ময়েশ্চারাইজার: ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার, ফেস অয়েল, অয়েল বেসড সিরাম—এগুলো শীতের জন্য। গরমে মুখে দিলে ঘাম আরও হবে, মুখ চটচট করবে। মেকআপ বসবেই না। স্যুইচ করুন জেল ময়েশ্চারাইজারে। অ্যালোভেরা জেল, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড জেল, ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার মাখুন। ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা দেখে কিনুন। এর মানে এটা পোরস বন্ধ করবে না। মেকআপের আগে ৫ মিনিট রেখে দিন। স্কিন সেটা টেনে নেবে, তারপর মেকআপ করুন।

প্রাইমার মাস্ট, তবে সিলিকন ফ্রি ম্যাট প্রাইমার: গরমে প্রাইমার আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড। এটা ঘাম আর তেল কন্ট্রোল করে, মেকআপ লং লাস্টিং করে। কিন্তু সিলিকন বেসড হেভি প্রাইমার নেবেন না। স্কিন আরও ঘামবে। নিন ওয়াটার বেসড বা জেল বেসড ম্যাটিফাইং প্রাইমার। টি-জোন মানে কপাল, নাক, থুতনিতে ভালো করে লাগান। পোরস ব্লার হবে, ফাউন্ডেশন গড়াবে না। প্রাইমারের পর ১ মিনিট ওয়েট করুন, তারপর বেস মেকআপ শুরু করুন।

পাউডার ব্লাশ-আইশ্যাডো, ক্রিম বাদ: ক্রিম ব্লাশ, ক্রিম আইশ্যাডো, ক্রিম হাইলাইটার দেখতে ডিউয়ি লাগে। কিন্তু গরমে ১০ মিনিটে গলে প্যাচি হয়ে যায়। ঘামের সাথে মিশে নোংরা দেখায়। গরমের জন্য পাউডার প্রোডাক্ট বেস্ট। পাউডার ব্লাশ, পাউডার আইশ্যাডো, পাউডার হাইলাইটার ব্যবহার করুন। এগুলো ঘাম শুষে নেয়, লং লাস্টিং হয়। যদি ক্রিম ইউজ করতেই হয়, তাহলে উপরে হালকা পাউডার দিয়ে সেট করে নিন।

ওয়াটারপ্রুফ কাজল-মাস্কারা ছাড়া বেরোবেন না: নর্মাল কাজল আর মাস্কারা গরমে একদম না। ঘাম বা চোখের জলে লেপ্টে পান্ডা আই হয়ে যাবেন। ইনভেস্ট করুন ভালো ওয়াটারপ্রুফ, স্মাজ-প্রুফ কাজল আর মাস্কারায়। টিউবিং মাস্কারা ট্রাই করুন। এটা জলে গলে না, গরম জলে ধুলে খোসার মতো উঠে আসে। আইলাইনারের বদলে জেল লাইনার বা লিকুইড লাইনার ইউজ করুন। পেন্সিল লাইনার গলে যায়।

লিপস্টিকের বদলে লিপ টিন্ট বা ম্যাট লিকুইড: ক্রিমি লিপস্টিক, গ্লসি লিপস্টিক গরমে গলে ঠোঁটের চারপাশে ছড়িয়ে যায়। খেতে গেলে উঠেও যায়। বেস্ট হল লিপ টিন্ট বা লিপ স্টেইন। এটা ঠোঁটে রঙ বসিয়ে দেয়, ওঠে না, ট্রান্সফার হয় না। সেকেন্ড অপশন ম্যাট লিকুইড লিপস্টিক। শুকিয়ে সেট হয়ে যায়, ঘামে গলে না। লাগানোর আগে লিপ বাম মেখে ২ মিনিট পর টিস্যু দিয়ে মুছে নিন। তারপর লিপস্টিক লাগান। ফাটবে না।

সেটিং স্প্রে দিয়ে লক করুন, ব্লটিং পেপার রাখুন ব্যাগে: সব শেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে মাস্ট। এটা মেকআপ লক করে দেয়, ঘামে গলতে দেয় না। ‘ম্যাট ফিনিশ’ বা ‘অয়েল কন্ট্রোল’ সেটিং স্প্রে কিনুন। ফুল ফেসে ২-৩ বার স্প্রে করে শুকোতে দিন। বাইরে গেলে ব্যাগে ব্লটিং পেপার রাখুন। মুখ ঘেমে গেলে ঘষবেন না। ব্লটিং পেপার দিয়ে হালকা চেপে চেপে ঘাম তুলে নিন। মেকআপ নষ্ট হবে না, ফ্রেশ লাগবে। কমপ্যাক্ট দিয়ে ঘষে ঘষে পাউডার দেবেন না, কেকি হয়ে যাবে।

গরম মানেই মেকআপকে টাটা বলতে হবে না। শুধু প্রোডাক্ট পাল্টে ফেলুন। ভারী বাদ দিয়ে হালকা, অয়েলি বাদ দিয়ে ওয়াটার বেসড, ক্রিম বাদ দিয়ে পাউডার। আর সবচেয়ে জরুরি হল স্কিনকে শ্বাস নিতে দিন। রাতে ডাবল ক্লিনজিং মাস্ট। ভালো করে মেকআপ না তুললে ব্রণ কনফার্ম। দিনে ৩-৪ লিটার জল খান, স্কিন ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকবে।