ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই মহিলাদের রোগ, এই ধারণা ভুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, মোট রোগীর ৯৯ শতাংশ মহিলা হলেও ০.৫ থেকে ১ শতাংশ পুরুষও এই রোগে আক্রান্ত হন।

ব্রেস্ট ক্যানসারের নাম শুনলেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে মহিলাদের ছবি। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। পুরুষদেরও হতে পারে ব্রেস্ট ক্যানসার, এবং তা মোটেও অবহেলা করার মতো নয়।

WHO কী বলছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রেস্ট ক্যানসারের ৯৯ শতাংশ রোগীই মহিলা। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার মাত্র ০.৫ থেকে ১ শতাংশ। সংখ্যাটা খুব সামান্য শোনালেও, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর হাজার হাজার পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

পুরুষদের ক্ষেত্রে কেন বেশি বিপজ্জনক?

১. সচেতনতার অভাব: পুরুষরা ভাবেনই না যে তাঁদের ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে। তাই বুকে কোনও চাকা বা ব্যথা হলে তাঁরা গুরুত্ব দেন না।

২. দেরিতে রোগ নির্ণয়: সচেতনতা কম থাকায় এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না হওয়ায়, পুরুষদের ক্ষেত্রে ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন অনেকটাই অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে যায়।

৩. ছোট ব্রেস্ট টিস্যু: পুরুষদের ব্রেস্ট টিস্যু কম থাকায় ক্যানসার কোষ দ্রুত বুকের প্রাচীর, ত্বক বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়া আর চিকিৎসা শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন? পুরুষদের ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রায় একই:

- বুকে বা বগলে কোনও শক্ত চাকা বা পিণ্ড অনুভব করা

- স্তনবৃন্ত ভিতরে ঢুকে যাওয়া বা আকার বদলে যাওয়া

- স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা রস বেরোনো

- বুকে লালচে ভাব, ফোলা বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া

- বুকে ক্রমাগত ব্যথা

ঝুঁকি কাদের বেশি?

- বয়স ৬০-এর বেশি হলে

- পরিবারে ব্রেস্ট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে (BRCA1/BRCA2 জিন)

- অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা

- লিভারের সমস্যা বা ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য হলে

- বুকে আগে রেডিয়েশন থেরাপি হয়ে থাকলে

মনে রাখবেন, লজ্জা বা সংকোচ নয়। বুকে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে পুরুষদের ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসাও সম্পূর্ণ সম্ভব।