Travel Tips: দার্জিলিং যেতে সময় আর টাকা দুটোই বেশি লাগে। কিন্তু জানেন কি, বীরভূম থেকে মাত্র ৪৫ কিমি দূরে ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার শিকারিপাড়ায় আছে এক 'মিনি দার্জিলিং'? স্থানীয়দের কাছে যা সাধু পাহাড় নামে পরিচিত। কম খরচে একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার সেরা অফবিট ডেস্টিনেশন।

Travel Tips: দার্জিলিং মানেই বাঙালির ইমোশন। কিন্তু টিকিটের হাহাকার, হোটেলের আকাশছোঁয়া দাম আর ৩ দিনের ছুটি - সব মিলিয়ে অনেকেরই যাওয়া হয় না। তাদের জন্যই প্রকৃতি বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে লুকিয়ে রেখেছে এক টুকরো দার্জিলিংকে। নাম তার সাধু পাহাড়।

ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার শিকারিপাড়া ব্লকে অবস্থিত এই পাহাড়কে স্থানীয় মানুষ এবং ঘুরতে আসা পর্যটকরা ভালোবেসে ডাকেন ‘মিনি দার্জিলিং’ বলে। বীরভূমের সাঁইথিয়া থেকে দূরত্ব মাত্র ৪৫ কিমি, রামপুরহাট থেকে ৬০-৬৫ কিমি। তাই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমানের মানুষের কাছে এটি এখন দারুণ এক উইকএন্ড ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে।

কেন একে ‘মিনি দার্জিলিং’ বলা হয়?

এই নামের পিছনে ৩টে বড় কারণ আছে।

১. আবহাওয়া আর ঠান্ডা একদম দার্জিলিং-এর মতো: সমতল থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট উঁচু এই পাহাড়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাড় হিম করা ঠান্ডা থাকে। সকালে ঘন কুয়াশা, মেঘেদের আনাগোনা, আর বিকেলে হিল টপ থেকে সূর্যাস্ত - এই অনুভূতি দার্জিলিং-এর টাইগার হিলের থেকে কম নয়। গ্রীষ্মকালেও এখানে শহরের থেকে ৫-৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা কম থাকে।

২. ভিউ আর নির্জনতা: পাহাড়ের ওপর থেকে চারপাশের সবুজ শাল-পিয়ালের জঙ্গল, ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম আর আঁকাবাঁকা রাস্তার যে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়, তা দার্জিলিং না যেতে পারার দুঃখ ভুলিয়ে দেবে। এখানে কোনও ভিড় নেই, হোটেলের দালাল নেই, শুধু শান্ত প্রকৃতি।

৩. কম খরচে পাহাড়ের ফিল: দার্জিলিং যেতে যেখানে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ, সেখানে সাধু পাহাড় বাইকে বা চার চাকায় ৫০০-৮০০ টাকার তেলে একদিনে ঘুরে আসা যায়। কোনও এন্ট্রি ফি নেই।

কীভাবে যাবেন?

বীরভূমের সাঁইথিয়া বা মল্লারপুর থেকে আম্বা মোড় হয়ে মল্লারপুর রেলগেট পেরিয়ে শিকারিপাড়ার রাস্তা। রাস্তায় বোর্ড আছে, গুগল ম্যাপে Sadhu Hill, Shikaripara লিখলেই লোকেশন পেয়ে যাবেন। বাইক বা স্কুটি নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। ওপরে ওঠার রাস্তাটা একটু খাড়া, তাই সাবধানে চালাবেন।

কখন যাবেন?

সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল থাকে। সঙ্গে জল, শুকনো খাবার নিয়ে যাবেন, ওপরে কোনও দোকান নেই। সন্ধ্যের আগেই নেমে আসাই ভালো।

একদিনের ছুটিতে পাহাড়ের নেশা মেটাতে চাইলে সাধু পাহাড় আপনার জন্য পারফেক্ট। ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে একটা দিন কাটিয়ে আসুন এই মিনি দার্জিলিং থেকে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।