ফর্সা হওয়ার জন্য পার্লারে বা অনলাইনে গ্লুটাথায়োন স্যালাইন নিচ্ছেন? এই হুজুগে মেতে উঠেছে টলি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ফর্সা হওয়ার এই ড্রিপে অ্যালার্জি থেকে কিডনি, লিভার বিকল, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকি পর্যন্ত আছে।
ইনস্টাগ্রাম খুললেই বিজ্ঞাপন - "৭ দিনে দুধের মতো ফর্সা, গ্লুটাথায়োন ড্রিপ নিন"। সেলিব্রিটিরা নিচ্ছেন, ইনফ্লুয়েন্সাররা প্রোমোট করছেন। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরে ঢোকাচ্ছেন গ্লুটাথায়োন নামে এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভাবছেন, একটু ফর্সা হবেন, কী আর হবে? চিকিৎসকরা বলছেন, এটা সুন্দর হওয়া নয়, সোজা মৃত্যুকে ডেকে আনা।
আসলে গ্লুটাথায়োন আমাদের শরীরেই তৈরি হয়, লিভার পরিষ্কার রাখে। কিন্তু বেশি মাত্রায় স্যালাইনের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে ঢোকালে সেটা মেলানিন কমিয়ে ত্বক সাময়িক ফর্সা দেখায়। কিন্তু US FDA, ভারতের DCGI - কেউই ফর্সা হওয়ার জন্য গ্লুটাথায়োন ড্রিপকে অনুমোদন দেয়নি। এটা বেআইনি ভাবে পার্লার, কিছু ক্লিনিকে দেওয়া হচ্ছে।
শরীরে কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়?
১. মারাত্মক অ্যালার্জি ও অ্যানাফাইল্যাক্সিস: সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এটা। স্যালাইন চলাকালীনই শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, সারা শরীরে লাল চাকা, মুখ ফুলে যাওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ICU-তে নিতে হয়েছে। কারণ, এই ড্রিপের সঙ্গে অনেক সময় ভিটামিন C, কোলাজেন মেশানো হয়, যার বিক্রিয়ায় শরীর শক-এ চলে যায়।
২. কিডনি ও লিভার বিকল: গ্লুটাথায়োন ফিল্টার হয় কিডনি দিয়ে। মাসের পর মাস এই ডোজ নিলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায়। লিভারেও টক্সিসিটি হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৫-৩০ বছর বয়সেই কিডনি ফেলিওরের রোগী পাচ্ছেন যারা ৬ মাস ধরে এই ড্রিপ নিয়েছেন।
৩. থাইরয়েড ও হরমোনের গোলমাল: এটি থাইরয়েড হরমোনের কাজে বাধা দেয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত পিরিয়ড, চুল পড়া, ওজন বেড়ে যাওয়া শুরু হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রেও হরমোনাল ইমব্যালেন্স দেখা যায়।
৪. ফর্সা থাকবেন না, কালো আরও বেশি হবেন: সবচেয়ে বড় ধোঁকা এখানেই। ড্রিপ বন্ধ করলেই ২-৩ মাসের মধ্যে ত্বক আগের চেয়েও বেশি কালো, ছোপ ছোপ হয়ে যায়। কারণ শরীর তখন আরও বেশি মেলানিন তৈরি করে। তখন আবার ড্রিপ নিতে বাধ্য হন, একটা নেশার মতো।
কলকাতার বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরিত্রী রায়ের কথায়, "ফর্সা হওয়ার কোনও স্যালাইন হয় না। গায়ের রং জিনে থাকে। এই ড্রিপগুলোতে কী আছে, আদৌ গ্লুটাথায়োন আছে কি না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। পার্লারে বসে স্যালাইন নেওয়া মানে সেপসিস, ইনফেকশন হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।"
তাই ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনে ভুলবেন না। কালো, শ্যামলা রং খারাপ নয়। সুস্থ ত্বকই সুন্দর ত্বক। ফর্সা হওয়ার নেশায় নিজের কিডনি, লিভার বিক্রি করে দেবেন না।


