কারণ নেই, তবু মন ভার? মস্তিষ্কের "হ্যাপি হরমোন" সেরোটোনিন কমে গেছে। ওষুধের আগে প্লেট বদলান। কিছু খাবার সরাসরি ব্রেনে ডোপামিন-সেরোটোনিন বাড়ায়। হাতের কাছে থাকা ৫টি খাবারই যথেষ্ট। মুড সুইং, বিরক্তি, অবসাদ - সব কাটবে ন্যাচারালি। 

কারণ নেই, তবু মন ভার? মস্তিষ্কের "হ্যাপি হরমোন" সেরোটোনিন কমে গেছে। ওষুধের আগে প্লেট বদলান। কিছু খাবার সরাসরি ব্রেনে ডোপামিন-সেরোটোনিন বাড়ায়। হাতের কাছে থাকা ৫টি খাবারই যথেষ্ট। মুড সুইং, বিরক্তি, অবসাদ - সব কাটবে ন্যাচারালি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মন খারাপের আসল শত্রু কোথায় লুকিয়ে জানেন কি? আপনার পেট হলো "সেকেন্ড ব্রেন"। শরীরের ৯০% সেরোটোনিন পেটের গাট ব্যাকটেরিয়াই বানায়। জাঙ্ক ফুড, কম ঘুম, বেশি চা-কফি খেলে এই ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। তখন মস্তিষ্কে হ্যাপি হরমোন তৈরি হয় না। ফলাফল - অকারণ মন খারাপ। তাই মুড ঠিক করতে প্রথমে পেট ঠিক করো।

১ নম্বর খাবার - ডার্ক চকলেট:

কী আছে এতে: ৭০% বা তার বেশি কোকো। ফ্ল্যাভোনল আর থিওব্রোমিন নামের কম্পাউন্ড।

কীভাবে কাজ করে: এগুলো ব্রেনে এন্ডরফিন ছাড়ে। মানে "হ্যাপি হরমোন" বুস্ট।

কখন কতটা খাবে: দিনে ২-৩ টুকরো। ২০ গ্রামের বেশি না। দুধ চকলেট বাদ। তাড়াহুড়ো করে না, মুখে রেখে মেল্ট করো। ৫ মিনিটেই মাথা হালকা।

২ নম্বর খাবার - কলা আর বাদাম মাখন:

কী আছে এতে: কলায় ভিটামিন B6 আর ট্রিপটোফান। বাদাম মাখনে ম্যাগনেসিয়াম।

কীভাবে কাজ করে: ট্রিপটোফান থেকেই সেরোটোনিন তৈরি হয়। ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রেস হরমোন কমায়।

কখন কতটা খাবে: বিকেল ৪টের "মন খারাপ টাইম"-এ। ১টা পাকা কলা স্লাইস করে ১ চামচ চিনাবাদাম মাখন মাখিয়ে খাও। ইনস্ট্যান্ট এনার্জি আসবে।

৩ নম্বর খাবার - টক দই আর ফল :

কী আছে এতে: টক দইয়ের প্রোবায়োটিক। বেরি বা কালো আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

কীভাবে কাজ করে: প্রোবায়োটিক গাট ব্যাকটেরিয়া রিপেয়ার করে। ৯০% সেরোটোনিন ফ্যাক্টরি চালু হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্রেন ফগ সরায়।

কখন কতটা খাবে: ১ বাটি টক দইয়ে ফল কুচি মিশিয়ে নাও। চিনি দেবে না। দুপুরের খাবারের পর খেলে হজমও হবে, মুডও ভালো হবে।

৪ নম্বর খাবার - ভেজানো বাদাম :

কী আছে এতে: আখরোটে ওমেগা-৩। আমন্ডে ম্যাগনেসিয়াম আর ভিটামিন E।

কীভাবে কাজ করে: ওমেগা-৩ ব্রেনের মুড স্টেবিলাইজার। ম্যাগনেসিয়াম অ্যাংজাইটি কাটে।

কখন কতটা খাবে: রাতে ৪টে আমন্ড আর ২টো আখরোট জলে ভেজাও। সকালে খোসা ছাড়িয়ে খাও। অফিসের টিফিনেও রাখতে পারো। মুড সুইং আটকাবে।

৫ নম্বর খাবার - ডিমের কুসুম বা ডাল:

কী আছে এতে: ডিমের কুসুমে ভিটামিন D আর ট্রিপটোফান। মুসুর ডালেও ট্রিপটোফান আছে।

কীভাবে কাজ করে: ভিটামিন D কম থাকলে ডিপ্রেশন হয়। ট্রিপটোফান সেরোটোনিনের কাঁচামাল।

কখন কতটা খাবে: সকালে ১টা সেদ্ধ ডিম। কুসুমটা বাদ দিও না। নিরামিষ হলে ১ বাটি ডাল। সাথে লেবু চিপে নাও - ভিটামিন C শোষণ বাড়ায়।

মন ভালো রাখতে ৩টি নিয়ম মানো :

নিয়ম ১ - জাঙ্ক ফুড বাদ: চিপস-কোল্ড ড্রিঙ্কস ১০ মিনিট ভালো লাগাবে। তারপর সুগার ক্র্যাশে মুড আরও ডাউন।

নিয়ম ২ - জল খাও: শরীরে জল কম থাকলে মাথা গরম হয়। মন খারাপ লাগলে আগে ১ গ্লাস জল খাও। দিনে ৮ গ্লাস টার্গেট।

নিয়ম ৩ - একা খেও না: কারও সাথে গল্প করে খেলে সেরোটোনিন ডবল হয়। একা একা খেলে নেগেটিভ চিন্তা বাড়ে।

এই ৩টি ভুল একদম করবে না:

ভুল ১ - চা-কফি দিয়ে মুড ঠিক করা: ক্যাফিন সাময়িক ফুরফুরে করে। তারপর অ্যাংজাইটি বাড়ায়।

ভুল ২ - মিষ্টি দিয়ে কষ্ট চাপা: রসগোল্লা খেলে ডোপামিন স্পাইক হয়। ২০ মিনিট পর গিল্ট আর সুগার ক্র্যাশ।

ভুল ৩ - না খেয়ে থাকা: "মন ভালো নেই, খাব না" - এটা সবচেয়ে ডেঞ্জারাস। পেট খালি থাকলে ব্রেন নেগেটিভ চিন্তা বেশি করে।

শেষ কথা

মন খারাপ মানে তুমি দুর্বল না। মানে তোমার শরীর একটু সাপোর্ট চাইছে। ফোন না ঘেঁটে ফ্রিজ খোলো। ওষুধের আগে এই ৫টি খাবার ট্রাই করো। মুডের ৮০% কন্ট্রোল তোমার হাতেই। আজ থেকেই ১টা খাবার শুরু করো। ৭ দিন পর নিজেই ফারাক বুঝবে। এটা জেনারেল নিউট্রিশন ইনফো। টানা ২ সপ্তাহের বেশি ডিপ্রেশন বা সুইসাইডাল চিন্তা থাকলে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়া জরুরি। খাবার সাপোর্ট করে, চিকিৎসার বদল না।