বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের সর্বশেষ সতর্কতা ভারতকে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে ফেলেছে। বিশ্ব স্থূলতা অ্যাটলাস ২০২৬ অনুসারে, অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার সাথে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। 

বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের সর্বশেষ সতর্কতা ভারতকে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে ফেলেছে। বিশ্ব স্থূলতা অ্যাটলাস ২০২৬ অনুসারে, অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার সাথে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, কেবল চিনের পরে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশন’-এর তথ্য বলছে, ভারতে ৫ থেকে ৯ বছর এবং ১০ থেকে ১৯ বছরের শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে স্থূলত্বের হার সবচেয়ে বেশি। ওজন যে ভাবে বেড়ে চলেছে ছোটদের, তাতে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ আসতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের আশঙ্কা, শৈশবে মেদবাহুল্য ও মাত্রাতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এ দেশের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে। ২০৪০ সালের মধ্যে এ দেশের অন্তত ১২ কোটি শিশু ও কমবয়সিরা স্থূলত্ব জনিত নানা রোগের শিকার হবে। তার মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, মেটাবলিক সিনড্রোম জনিত লিভারের জটিল অসুখ, কিডনির রোগ এবং থাইরয়েডের মতো অসুখ।

অ্যাটলাস সতর্ক করে দিয়েছে যে ২০৪০ সালের মধ্যে, কমপক্ষে ১২ কোটি ভারতীয় স্কুল-বয়সী শিশুর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ BMI-এর সাথে যুক্ত হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

আকাশ হেলথ কেয়ারের এন্ডোক্রিনোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ মনিকা শর্মা বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এই বৃদ্ধির মূল কারণ। "আমরা শিশুদের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা দেখতে পাচ্ছি কারণ তারা খুব বেশি কাজ করে না এবং বেশি জাঙ্ক ফুড খায়। বেশিরভাগ বাড়িতেই শিশুরা মোবাইল ফোন নিয়ে বসে গেম খেলা একটি সাধারণ দৃশ্য। চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত বিপণন পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে," তিনি ব্যাখ্যা করেন।

ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানতে হবে। বাইরের খাবার, জাঙ্ক ফুডের বদলে শিশুর টিফিন বাক্সে গুছিয়ে দিতে হবে নানা ধরনের ফল, সব্জি ও ঘরে তৈরি হালকা খাবার। রোজ নিয়ম করে চল্লিশ থেকে ষাট মিনিট শিশুকে শারীরিক কসরত করতে হবে। বাইরে গিয়ে খেলাধূলার সুযোগ না থাকলে, বাড়িতে যোগাসন, ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে। বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা এবং মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়া— এই দুই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে স্থূলত্বের সমস্যা কমবে। শিশুর ওজন যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই অনুযায়ী সন্তানের খাদ্যতালিকা তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। দরকার হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।