মুখের ভেতরের ঘা সাধারণত ৭-১০ দিনে সেরে যায়। কিন্তু যদি ২-৩ সপ্তাহ পরেও না সারে, বড় হতে থাকে বা রক্ত বেরোয়, তবে তা সাধারণ আলসার নাও হতে পারে। কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন, জানুন।

মুখের ভেতরে ঘা হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। জিভে কামড় লাগা, ভিটামিনের অভাব, গ্যাস বা গরম খাবার খেলে হঠাৎ করেই এই যন্ত্রণাদায়ক ঘা দেখা দেয়। সাধারণত আমরা জেল লাগাই, নুন জলে কুলকুচি করি আর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা সেরেও যায়।

কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন সেই ঘা ২ সপ্তাহ পেরিয়েও সারে না। একই জায়গায় থেকে যায়, বড় হতে থাকে। তখন অনেকেই ভাবেন, এটা বোধহয় সাধারণ আলসার। এই ভুলটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা মুখের ক্যানসারের (Oral Cancer) প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

সাধারণ আলসার চিনবেন কীভাবে?

১. সাধারণত গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়, মাঝখানটা সাদা বা হলুদ, চারপাশ লাল। ২. খুব ব্যথা হয়, বিশেষ করে ঝাল, টক খেলে জ্বালা করে। ৩. জিভের নিচে, ঠোঁটের ভেতরে বা গালের নরম অংশে হয়। ৪. একসঙ্গে ২-৩টি ছোট ঘা হতে পারে। ৫. কোনও ওষুধ ছাড়াই ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়।

ক্যানসারের ঘা-এর লক্ষণ আলাদা - কখন সতর্ক হবেন?

যদি নিচের কোনও একটি লক্ষণও থাকে এবং ঘা ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকে, তবে দেরি না করে ENT বা ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন।

১. ব্যথাহীন কিন্তু বাড়তে থাকা ঘা: সাধারণ আলসারে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, কিন্তু ক্যানসারের ঘা প্রথম দিকে ব্যথাহীন হয় এবং মাংসপিণ্ডের মতো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

২. ঘায়ের কিনারা শক্ত ও উঁচু: সাধারণ ঘা নরম হয়। ক্যানসারের ঘায়ের চারপাশের কিনারা শক্ত, মোটা এবং খাঁজকাটা মনে হবে। সামান্য ছোঁয়াতেই রক্ত বা পুঁজ বেরোতে পারে।

৩. মুখের ভেতর সাদা বা লাল দাগ: জিভ, মাড়ি বা গালের ভেতরে যদি দীর্ঘদিন ধরে সাদা ছোপ (লিউকোপ্লাকিয়া) বা লাল ছোপ (এরিথ্রোপ্লাকিয়া) থাকে, যা ঘষলেও ওঠে না, এটি ক্যানসারের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।

৪. কারণ ছাড়াই রক্তপাত, গলায় কিছু আটকে থাকা: মুখ থেকে অকারণে রক্ত পড়া, গিলতে বা চিবাতে ব্যথা, জিভ নাড়াতে অসুবিধা।

৫. অন্যান্য বিপদ সংকেত: ঘাড়ে কোনও চাকা বা পিণ্ড, মুখ বা জিভের কোনও অংশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া, কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া এবং মুখ থেকে ক্রমাগত দুর্গন্ধ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন? যারা নিয়মিত তামাক, জর্দা, গুটখা, খৈনি, পান-সুপারি, বিড়ি-সিগারেট এবং অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ভাঙা দাঁত বা খারাপ ডেনচার একই জায়গায় বারবার ঘষা লাগলেও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? যে কোনও মুখের ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, একই জায়গায় বারবার হলে বা ওপরের লক্ষণগুলোর যে কোনও একটি থাকলে অবহেলা করবেন না। ডাক্তার প্রয়োজনে বায়োপসি করে নিশ্চিত হবেন।

মনে রাখবেন, বেশিরভাগ মুখের ঘা ক্যানসার নয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী ঘা অবহেলা করাও উচিত নয়। সময়মতো ধরা পড়লে মুখের ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব।

এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য। কোনও লক্ষণ দেখলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।