আমাদের রোজকার কিছু অভ্যাস, যেমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া, মন অন্যদিকে ঘোরানো, এবং বারবার অন্যের থেকে আশ্বাস খোঁজা, আমাদের অ্যাংজাইটি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই অভ্যাসগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব বাড়ায়।

আজকালকার জীবনে মানসিক চাপ আর অ্যাংজাইটি খুব সাধারণ একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের রোজকার কিছু অভ্যাসই কিন্তু এই উদ্বেগ বা টেনশন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন তিনটি প্রধান অভ্যাস আমাদের অ্যাংজাইটি বাড়িয়ে দেয়।

পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া

যখনই কোনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, আমরা অনেকেই সেটা এড়িয়ে যাই। এতে সাময়িকভাবে আরাম লাগলেও, এটা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য একটা ভুল সঙ্কেত। এর ফলে, পরের বার একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে ভয়টা দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে।

মন অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা

টেনশন হলেই কি আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করেন, বেশি বেশি খাবার খান, বা অকারণে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে পড়েন? এই কাজগুলো কিছুক্ষণের জন্য উদ্বেগ থেকে মুক্তি দিলেও, সমস্যার আসল কারণটা কিন্তু সমাধান হয় না।

বারবার অন্যের থেকে আশ্বাস খোঁজা

উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি হলে অন্যদের বারবার জিজ্ঞেস করা, "আমি কি কিছু ভুল বললাম?" বা "তুমি কি আমার ওপর রেগে আছ?" - এই ধরনের প্রশ্ন করা আরেকটা অভ্যাস। আবার, শরীরের সামান্য কোনও লক্ষণ দেখলেই গুগলে সার্চ করাও এর মধ্যেই পড়ে। এই অভ্যাসগুলো সাময়িকভাবে শান্তি দিলেও, ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্তের ওপর থেকে ভরসা কমিয়ে দেয় এবং মনের মধ্যে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

কী করণীয়?

যদি নিজের মধ্যে এই ধরনের লক্ষণগুলো দেখতে পান, তাহলে সেগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং তার মোকাবিলা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হোন।

অর্থাৎ আমাদের রোজকার কিছু অভ্যাস, যেমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া, মন অন্যদিকে ঘোরানো, এবং বারবার অন্যের থেকে আশ্বাস খোঁজা, আমাদের অ্যাংজাইটি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই অভ্যাসগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব বাড়ায়।