৩০ থেকে ৪০ বছরের তরুণীদের মধ্যেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্তনের ঘন টিস্যু এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কম বয়সে লক্ষণ চেনা কঠিন হলেও বংশগত কারণ, জীবনযাত্রা ও জিনের মিউটেশন এর পেছনে দায়ী।
স্তন ক্যানসার বললেই আমরা সাধারণত মাঝবয়সী বা বয়স্ক মহিলাদের কথা ভাবি। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। ৩০ থেকে ৪০ বছরের তরুণীদের মধ্যেও এই রোগ ক্রমেই বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই কম বয়স বলে ভয় নেই—এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শরীরের এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং উপসর্গ দেখা মাত্রই ডাক্তার দেখানো ভীষণ জরুরি।
আজকাল ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে যেসব ক্যানসার বেশি দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম এই স্তন ক্যানসার। অনেকেই ভাবেন, 'আমার তো এখনও বয়স হয়নি, ক্যানসার হবে কী করে!' এই ভাবনাই ডেকে আনছে বিপদ। 'সাউদার্ন মেরিল্যান্ড নিউজ'-এর একটি রিপোর্ট জানাচ্ছে, ঠিক এই ভুল ধারণার জন্যই অনেকে শুরুর দিকে লক্ষণ দেখেও গুরুত্ব দেন না, আর ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।
জানা যাচ্ছে, স্তনে নতুন কোনো চাকা, গুটি বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন চোখে পড়লে একদম অবহেলা করবেন না। বংশগত জিনগত কারণ, শরীরে হরমোনের প্রভাব আর আমাদের রোজকার জীবনযাত্রার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে ক্যানসারের এই ঝুঁকি কম-বেশি হতে পারে।
কম বয়সে মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে বংশগত কারণ। ড. মালহোত্রা জানান, পরিবারের জিনগত ইতিহাস বা BRCA1 ও BRCA2 জিনের মিউটেশন বা রূপান্তর ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া খুব কম বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়া, বেশি বয়সে প্রথম গর্ভধারণ কিংবা সন্তান না হওয়া—এসব কারণও এই ঝুঁকির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, মদ খাওয়ার অভ্যাস আর তামাক সেবন তো রয়েছেই। এবার দেখে নেওয়া যাক, স্তন ক্যানসারের প্রধান সতর্কবার্তাগুলো কী কী:
- স্তনে বা বগলে নতুন করে কোনো চাকা বা শক্ত গুটি দেখা দেওয়া।
- স্তনের আকার বা গঠনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আসা।
- স্তনের চামড়ায় টোল পড়া, ভাঁজ হওয়া বা চামড়া হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া।
- স্তনের বোঁটা বা নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া অথবা বোঁটার গঠন বদলে যাওয়া।
- নিপল থেকে অস্বাভাবিক কোনো তরল বা কষ নিঃসরণ হওয়া।
- স্তনের চারপাশের চামড়া টানা লাল হয়ে থাকা, ফুলে যাওয়া বা বা লালচে ভাব দেখা দেওয়া।
- স্তনে একটানা অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি থাকা।






