অস্টিওপোরোসিস মানেই বয়স্কদের রোগ, এই ধারণা ভুল। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটদের মধ্যেও হাড় ক্ষয় বা হাড় দুর্বল হওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, পুষ্টির অভাব, কম শারীরিক নড়াচড়া বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের দীর্ঘ ব্যবহারই এর মূল কারণ।
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ৬০ বছরের বৃদ্ধের ছবি। আমরা ভাবি, শিশুদের শক্ত হাড়ে এই রোগ হতেই পারে না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধারণা একেবারেই ভ্রান্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুদেরও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। একে বলে Juvenile Osteoporosis। যদিও এটি খুব সাধারণ রোগ নয়, তবে গত কয়েক বছরে শিশুদের মধ্যে এর হার বাড়ছে।
*কেন হয় শিশুদের হাড় ক্ষয়?*
শিশুদের হাড় ক্ষয়ের পিছনে দু'ধরনের কারণ থাকে।
*১. সেকেন্ডারি অস্টিওপোরোসিস:* কোনও দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে। যেমন - কিডনির রোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, সিলিয়াক ডিজিজ বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। এছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড বা খিঁচুনির ওষুধ খেলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়।
*২. প্রাইমারি বা ইডিওপ্যাথিক:* কোনও কারণ ছাড়াই, জিনগত কারণে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে - ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর তীব্র অভাব, অপুষ্টি, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, সারাদিন ঘরে বসে থাকা, রোদ না লাগা এবং শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা একেবারে না করা।
*কোন লক্ষণগুলো দেখে সতর্ক হবেন?*
বাচ্চারা অনেক সময় ব্যথা ঠিক করে বলতে পারে না। তাই বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে।
- *বারবার ফ্র্যাকচার:* সামান্য পড়ে গিয়েই হাত-পা ভেঙে যাওয়া, বিশেষ করে মেরুদণ্ড বা পায়ের হাড়।
- *পিঠে বা কোমরে ক্রমাগত ব্যথা।*
- *হাঁটতে বা দাঁড়াতে কষ্ট হওয়া, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া।*
- *উচ্চতা না বাড়া বা কুঁজো হয়ে যাওয়া।*
- *হাড়ের বিকৃতি বা পা বেঁকে যাওয়া।*
*চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কী করবেন?*
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো ধরা পড়লে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসার জন্য DEXA স্ক্যান করে হাড়ের ঘনত্ব মাপা হয়। তারপর কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
প্রতিরোধের জন্য ৩টি জিনিস মাথায় রাখুন:
*১. খাবার:* রোজকার খাবারে রাখুন দুধ, ডিম, ছোট মাছ, দই, সবুজ শাকসবজি। এগুলো ক্যালসিয়ামের সেরা উৎস।
*২. রোদ:* প্রতিদিন সকালে ১৫-২০ মিনিট রোদে খেলতে দিন। ভিটামিন ডি ছাড়া ক্যালসিয়াম হাড়ে শোষিত হয় না।
*৩. খেলাধুলা:* মোবাইল-টিভি কমিয়ে দৌড়ঝাঁপ, সাইকেল চালানো, লাফানোর মতো ওয়েট-বেয়ারিং এক্সারসাইজ করান।
বাচ্চার হাড়ের ব্যথাকে কখনওই "বড় হচ্ছে তাই ব্যথা" বলে এড়িয়ে যাবেন না। সন্দেহ হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।








