পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হট ফ্ল্যাশ, মুড সুইং, অনিদ্রা শুধু শারীরিক সমস্যা নয়। এই সময়ে মানসিক সাপোর্ট সবচেয়ে বড় ওষুধ। আর সেই সাপোর্ট সবচেয়ে ভালো দিতে পারে সেই বান্ধবী যে একই পথ পেরোচ্ছে।

৩৫-৪৫ এর পর থেকেই শুরু হয় পেরিমেনোপজ। তারপর ৪৫-৫৫ এর মধ্যে মেনোপজ। এই সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরন হরমোন ওঠা-নামা করে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বদলায় মনও।

ডাক্তার HRT দিতে পারেন, ভিটামিন দিতে পারেন, এক্সারসাইজের কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথা ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখতে পারেন না - "একজন বান্ধবী রাখুন"।

*কেন বান্ধবীর সঙ্গ ওষুধের চেয়েও বেশি কাজে দেয়?*

*১. এই ভয়টা কেটে যায়*

হঠাৎ রাত ২টোয় ঘুম ভেঙে ঘাম হচ্ছে, পরের দিন অফিসে গিয়ে কারণ ছাড়াই কান্না পাচ্ছে, বা নিজেকে বুড়ি লাগছে। বাড়ির লোক হয়তো বলে "এত চিন্তা করো না"। কিন্তু যে বান্ধবী কাল রাতেও একই কারণে জেগেছে, সে বলবে "আমারও হয় রে"। এই একটা লাইনেই অর্ধেক কষ্ট কমে যায়।

*২. মুড সুইং আর ইরিটেশনের জাজমেন্ট থাকে না*

এই সময়ে সামান্য কারণে রেগে যাওয়া, বা হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলা খুব স্বাভাবিক। বাড়ির লোক বিরক্ত হতে পারে। কিন্তু বান্ধবী বোঝে। সে বলে "আজ মুড অফ? চল চা খাই"। কোনো জাজমেন্ট নেই।

*৩. শরীরের বদল নিয়ে কথা বলা যায়*

ওজন বেড়ে যাওয়া, ত্বক খসখসে হওয়া, লিবিডো কমে যাওয়া - এই কথাগুলো হাজব্যান্ড বা ডাক্তারকেও সবসময় খুলে বলা যায় না। কিন্তু বান্ধবীকে বলা যায়। সে টিপস দেয়, হাসে, আর বলে "আমারও সেম অবস্থা"।

*৪. একা লাগার ফিলিংটা দূর হয়*

মেনোপজ মানে অনেকের কাছেই মনে হয় "আমার নারীত্ব শেষ"। এই সময়ে সোশ্যাল আইসোলেশন খুব বাড়ে। বান্ধবীর সাথে আড্ডা, হাঁটা, একসাথে যোগা করা - এগুলো ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি অনেকটা কমিয়ে দেয়। স্টাডিতেও দেখা গেছে, স্ট্রং সোশ্যাল সাপোর্ট থাকলে হট ফ্ল্যাশ আর ইনসমনিয়া কম হয়।

*৫. তথ্য আর সাহস দুটোই পাওয়া যায়*

কে ভালো গাইনোকলজিস্ট, কোন যোগা কাজে দিচ্ছে, HRT নেওয়া উচিত কিনা - এই সব ইনফো বান্ধবীদের গ্রুপেই আগে ঘোরে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সে আপনাকে সাহস দেয় - "এটা একটা ফেজ, কেটে যাবে"।

ওষুধ শরীর ঠিক করে। থেরাপি মন ঠিক করে। কিন্তু বান্ধবী? সে আপনাকে মনে করিয়ে দেয় - "তুমি একা নও। আমরা একসাথে আছি"। পেরিমেনোপজ আর মেনোপজ কোনো রোগ না। এটা জীবনের একটা নতুন অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়টা বান্ধবীদের সাথে কাটালেই সবচেয়ে সুন্দর হয়।