কোনও মন্দিরে গেলে সেখান থেকে ফুল কিনে আমরা পুজো দিই। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন পন্থা মেনে থাকেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে এ বিষয়ে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা রয়েছে।

পুজোয় ফুল অনিবার্য। ফুল ছাড়া পুজো যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফুল দিয়ে ঠাকুরের আসন সাজালে এক আলাদা অনুভূতি সৃষ্টি হয় আমাদের মনে। শান্তি অনুভূত হয়, দেখতেও সুন্দর লাগে। বাড়ির গাছ থেকে ফুল তুলে অনেকে পুজো করেন। আবার বাজার থেকে ফুল কিনে এনেও পুজো করা হয়। কোনও মন্দিরে গেলে সেখান থেকে ফুল কিনে আমরা পুজো দিই। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন মানুষ বিভিন্ন পন্থা মেনে থাকেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে এ বিষয়ে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা রয়েছে। সে বিষয় অনেকের কাছেই অজানা।

শাস্ত্রীয় মতে, পুজোর কাজে ব্যবহৃত ফুল জলে ধোয়া একেবারেই অনুচিত এবং ভুল। ফুল প্রকৃতির দান এবং তা নিজেই শুদ্ধ, তাই জলে ডোবালে তা 'জলদেবতা'র উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়ে যায়। যা অন্য দেবতার পূজায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

তবে তুলসী, দূর্বা, পদ্ম, বেল, চাঁপা ও মালতী ফুল বাসি হলেও ধুয়ে ব্যবহার করা যায়।

জ্যোতিষী ও শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত আলোচনা:

* কেন ধোবেন না? ফুল যখনই জলে ডোবাচ্ছেন, তখনই সেটি জলদেবতাকে নিবেদন করা হয়ে যায়। একবার নিবেদিত ফুল অন্য দেবতার পুজোয় দিলে তাতে দোষ লাগে।

* শুদ্ধতার নিয়ম: বাড়ি থেকে ফুল তুললে তা না ধুয়েই ব্যবহার করা উচিত। গাছ থেকে ফুল তোলার পর তা শুদ্ধ, ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

* শিউলি ফুলের নিয়ম: শিউলি ফুল মাটিতে পড়লেও তা অশুদ্ধ হয় না, কিন্তু তা ধুয়ে পুজোয় দিলে দেবতারা তা গ্রহণ করেন না।

* বাসি ফুলের নিয়ম: সাধারণ ফুল বাসি বা পুরনো হলে (একদিন আগের) তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র বিশেষ কিছু ফুল (যেমন-তুলসী, পদ্ম) বাসি হলেও ধুয়ে ব্যবহার করা যায়।

* সতর্কতা: মাটিতে পড়ে থাকা, মলিন, বা পোকা ধরা ফুল পুজোয় ব্যবহার করবেন না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুজোয় ব্যবহৃত ফুল বাসি হলে তা ময়লায় না ফেলে, নদীর জলে বা গাছের গোড়ায় মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া উচিত। পুজোর ফুল ধোয়া যাবে না। ফুল প্রকৃতির নিয়মেই শুদ্ধ।