"প্রেমের হরমোন" অক্সিটোসিনের নেজাল স্প্রে নিয়ে এখন তোলপাড়। নেটিজেনরা বলছে এটা ‘কামদেবের পঞ্চবাণ’। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে? এই স্প্রে কি সত্যি সম্পর্ক জোড়া লাগাবে, নাকি নিছক মার্কেটিং?

ঝগড়ার পর পার্টনারকে মানাতে এখন আর শুধু ফুল-চকলেট নয়। বিজ্ঞানীরা নতুন একটা রাস্তা দেখাচ্ছেন। সেটা হল একটা ছোট্ট নেজাল স্প্রে।

নাম অক্সিটোসিন নেজাল স্প্রে। ইনস্টাগ্রাম-রিলসে এর নাম হয়ে গেছে ‘কামদেবের পঞ্চবাণ’। দাবি, নাকে দুবার স্প্রে করলেই নাকি রাগ কমবে, বিশ্বাস বাড়বে, ভালোবাসা উথলে উঠবে।

কিন্তু ব্যাপারটা কি অতই সোজা?

অক্সিটোসিন আসলে কী জিনিস?

অক্সিটোসিন হল আমাদের ব্রেনের একটা হরমোন। একে সবাই "Love Hormone" বা "Cuddle Hormone" বলে ডাকে।

কখন এটি বের হয়? যখন মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান। যখন আমরা কাউকে জড়িয়ে ধরি। যখন প্রিয় মানুষের চোখে চোখ রাখি। এমনকি কুকুরকে আদর করলেও।

এর কাজ হল বিশ্বাস তৈরি করা, সহানুভূতি বাড়ানো আর মানুষের সাথে বন্ধন মজবুত করা।

নেজাল স্প্রেটা কীভাবে কাজ করে?

সাধারণ ওষুধ পেট হয়ে রক্তে যায়। কিন্তু নাক দিয়ে দিলে অক্সিটোসিন সোজা মস্তিষ্কে চলে যায়। মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই এফেক্ট টের পাওয়া যায়।

বিদেশে এর ওপর অনেক ট্রায়াল হয়েছে। রেজাল্ট মিশ্র।

এই থেরাপির ভালো দিক কী কী?

প্রথমত, কাপল থেরাপিতে ব্যবহার হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে স্প্রে নেওয়ার পর অনেকে ঝগড়ার সময় বেশি চেঁচামেচি করে না। বরং কথা শোনে।

দ্বিতীয়ত, যাদের "সোশ্যাল অ্যাংজাইটি" আছে বা অটিজম আছে, তাদের মানুষের ইমোশন বুঝতে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, হাসপাতালে প্রসবের সময় ও ব্রেস্টফিডিং এর জন্য ডাক্তাররা অনেক দিন ধরেই অক্সিটোসিন ব্যবহার করেন।

খারাপ দিক বা লিমিটেশন কী?

এটা কোনো ম্যাজিক নয়। এফেক্ট থাকে মাত্র ২ ঘণ্টা। তারপর আবার যে কে সেই।

আবার সম্পর্কে যদি বিশ্বাসের বড় ফাটল থাকে, এই স্প্রে তা জোড়া লাগাতে পারবে না। উল্টে কারও কারও মধ্যে নিজের লোকের প্রতি পক্ষপাতও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাইড এফেক্টও আছে। নাক জ্বালা, মাথা ব্যথা, মুড সুইং, ব্লাড প্রেসারের সমস্যা হতে পারে।

ভারতে কি পাওয়া যায়? ডাক্তার কী বলছেন?

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনির্বাণ বসুর মতে, "ভারতে এখনও CDSCO অনুমোদিত কোনো 'রিলেশনশিপ স্প্রে' নেই। অনলাইনে যেগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর গুণমান নিয়ে সন্দেহ আছে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া উচিত নয়।"

FDA বা ইউরোপেও এটি এখনও শুধু রিসার্চ ও নির্দিষ্ট রোগের জন্যই ব্যবহার হয়।

তাহলে প্রেম বাড়ানোর আসল উপায় কী?

বিজ্ঞানীরাই বলছেন, স্প্রের দরকার নেই। এই কাজগুলো করুন, শরীর নিজেই অক্সিটোসিন বানাবে।

২০ সেকেন্ড ধরে জড়িয়ে ধরুন। একসাথে রান্না করুন। ফোন দূরে রেখে ২ মিনিট চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। হাত ধরে হাঁটতে যান।

এই ছোট ছোট কাজই সবচেয়ে বড় "প্রেমের স্প্রে"।

অক্সিটোসিন স্প্রে নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের বড় আবিষ্কার। ডিপ্রেশন বা PTSD এর চিকিৎসায় এটি কাজে লাগতে পারে।

কিন্তু মনে রাখবেন, সম্পর্ক টেকে সময়, বিশ্বাস আর যত্নে। এর বিকল্প আজও আবিষ্কার হয়নি।