RO জল খেলেই সর্বনাশ! ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছেন রোগের মধ্যে? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, জেনে নিন

বর্তমানে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য অনেকেই RO (Reverse Osmosis) ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করেন। দূষিত জল থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দূর করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—RO দিয়ে পরিশোধিত জল কি শরীরের জন্য সবসময় উপকারী? RO প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে RO বা Reverse Osmosis হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে জলের মধ্যে থাকা অশুদ্ধি দূর করতে একটি বিশেষ ঝিল্লির (membrane) মাধ্যমে উচ্চচাপে জলকে ফিল্টার করা হয়। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ভারী ধাতু এবং নানা ধরনের দূষিত পদার্থ সহজেই দূর হয়ে যায়। তাই অনেক শহরে নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার জন্য এই প্রযুক্তির উপরই নির্ভর করেন মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, RO প্রযুক্তি শুধু ক্ষতিকর পদার্থই নয়, জলে থাকা কিছু প্রয়োজনীয় মিনারেলও অনেক সময় কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে— ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম এই খনিজগুলো শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হাড় মজবুত রাখা, পেশির কাজ ঠিক রাখা এবং শরীরের নানা জৈব প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

RO জল কি সত্যিই ক্ষতিকর? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু RO জল পান করার ফলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ মানুষের শরীরের বেশিরভাগ মিনারেল আসে খাবার থেকে, পানীয় জল থেকে নয়। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে খুব কম মিনারেলযুক্ত জল পান করা হয় এবং খাদ্যতালিকায়ও পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে মিনারেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে RO ব্যবহারের পরামর্শ দেন— এলাকার জলে যদি দূষণ বা ভারী ধাতুর পরিমাণ বেশি থাকে জলের TDS মাত্রা খুব বেশি হলে নিরাপদ পানীয় জল পাওয়া কঠিন হলে এছাড়া বর্তমানে অনেক আধুনিক RO পিউরিফায়ারে মিনারেলাইজার বা TDS কন্ট্রোলার থাকে, যা জলে প্রয়োজনীয় মিনারেল আবার কিছুটা ফিরিয়ে দেয়। উপসংহার সব মিলিয়ে বলা যায়, RO প্রযুক্তি দূষিত জলকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। তবে জলের সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় মিনারেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে RO জল সাধারণত নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।