ভারতে লঞ্চ হয়েছে AI বেসড স্মার্ট অ্যাডজাস্টেবল বেড, যা নাক ডাকার সমস্যা সমাধানে সক্ষম। এই বেড সেন্সরের মাধ্যমে নাক ডাকা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে, ফলে ঘুমের মান উন্নত হয়।

“তোমার নাক ডাকার জন্য রাতে এক ফোঁটা ঘুম হয় না” - এই নিয়ে দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া, আলাদা ঘরে শোওয়া নতুন কিছু নয়। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট বলছে, শুধু নাক ডাকার কারণে ভারতে ৩০% দম্পতির ঘুমের কোয়ালিটি নষ্ট হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়েই এবার ভারতের বাজারে আসছে AI বেসড ‘রোবট’ বেড বা স্মার্ট অ্যাডজাস্টেবল বেড। এটা কোনো সিনেমার গল্প নয়, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাইয়ের বড় ফার্নিচার শোরুমে এখন এই খাট বিক্রি হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই খাটের আসল ম্যাজিক লুকিয়ে আছে এর সেন্সর আর মোটরে। বেডের ফ্রেমের সাথে লাগানো থাকে হাই সেনসিটিভ মাইক্রোফোন আর প্রেশার সেন্সর। আপনি নাক ডাকতে শুরু করলেই সেন্সর সেটা ডিটেক্ট করে ফেলে। সাথে সাথে খাটের মাথার দিকটা খুব ধীরে, প্রায় টের না পাওয়ার মতো ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি উঁচু হয়ে যায়। মাথা সামান্য উঁচু হলেই গলা আর শ্বাসনালীর পজিশন বদলে যায়, জিভ পিছনে চলে গিয়ে শ্বাস আটকায় না। ফলে নাক ডাকা ৮০% ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যায়। কিছু মডেলে মাথা উঁচু করার বদলে হালকা ভাইব্রেশন দেয়, যাতে আপনার গভীর ঘুম না ভেঙে শুধু পাশ ফিরে যান। পুরো প্রক্রিয়াটা এত স্মুথ যে পাশের মানুষ তো দূর, আপনারও ঘুম ভাঙবে না।

দম্পতিদের জন্য এই বেড আশীর্বাদ। কারণ এতে ‘ডুয়াল জোন স্প্লিট’ ফিচার থাকে। অর্থাৎ ডাবল বেড হলেও খাটটা ভিতরে ভিতরে দু’ভাগে আলাদা। আপনার দিকটা আপনি মোবাইল অ্যাপ বা রিমোট দিয়ে কন্ট্রোল করতে পারবেন, আপনার পার্টনারের দিকটা সে আলাদা কন্ট্রোল করবে। ধরুন আপনি টিভি দেখার জন্য ৪০ ডিগ্রি হেলান দিয়ে বসতে চান, কিন্তু আপনার স্ত্রী সোজা হয়ে ঘুমাতে চান। সাধারণ খাটে এটা সম্ভব নয়, কিন্তু স্মার্ট বেডে দুজন দু’রকম পজিশনে আরামে থাকতে পারবেন। কেউ কারও জন্য স্যাক্রিফাইস করতে হবে না। ঝগড়ার একটা বড় কারণই মিটে যাবে।

শুধু নাক ডাকা নয়, এই খাটে আরও অনেক ফিচার আছে। ‘জিরো গ্র্যাভিটি’ মোড অন করলে খাটটা এমন পজিশনে চলে যায় যাতে আপনার মাথা আর পা হার্টের থেকে সামান্য উপরে থাকে। নাসার অ্যাস্ট্রোনটরা মহাকাশে যেভাবে শোয়, এটা সেই পজিশন। এতে শরীরের উপর মাধ্যাকর্ষণের চাপ কমে, রক্ত চলাচল ভালো হয়, পিঠ-কোমরের ব্যথা, পায়ের ফোলা, অ্যাসিডিটি, নাক ডাকা সব কমে। বয়স্ক মানুষ বা যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে তাদের জন্য এটা দারুণ কাজের। এছাড়া বডি মাসাজ মোড, পায়ের দিকে হিটিং, রাতে বাথরুমে যাওয়ার জন্য অটোমেটিক আন্ডার-বেড লাইট, মোবাইল চার্জিং পোর্ট, অ্যান্টি-স্নোর অ্যালার্মের মতো সুবিধাও থাকছে।

দাম কত? ফিচার আর সাইজের উপর দাম নির্ভর করে। ভারতে এখন সিঙ্গেল অ্যাডজাস্টেবল বেড শুরু হচ্ছে ৭০-৮০ হাজার টাকা থেকে। আর ডুয়াল জোন, মাসাজ, AI স্নোর ডিটেকশন সহ কিং সাইজ স্মার্ট বেডের দাম ১.২ লাখ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলো এই বেড বানাচ্ছে। সাথে ৫-১০ বছরের মোটর ওয়ারেন্টিও দিচ্ছে। EMI অপশনও আছে।

তবে কেনার আগে দুটো জিনিস মাথায় রাখুন। প্রথমত, এই খাট বেশ ভারী, ৮০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। তাই বাড়ির মেঝে আর সিঁড়ি মাপা দরকার। দ্বিতীয়ত, নাক ডাকা যদি স্লিপ অ্যাপনিয়া বা টনসিলের মতো বড় সমস্যার জন্য হয়, তাহলে শুধু খাটে কাজ হবে না। ডাক্তার দেখানো জরুরি। এই বেড সাপোর্ট দিতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা নয়।

সোজা কথা, ঘুমের দাম লাখ টাকা। রাতে যদি ৭-৮ ঘণ্টা কোয়ালিটি ঘুম না হয়, তাহলে সুগার, প্রেশার, হার্টের রোগ, ডিপ্রেশন সব আসতে পারে। দাম্পত্য সম্পর্কও খারাপ হয়। সেখানে একবার ইনভেস্ট করে যদি দু’জনের ঘুম আর শান্তি ফিরে আসে, তাহলে এই ‘রোবট’ খাট খারাপ ডিল নয়। টেকনোলজি এখন শুধু ফোনে নয়, আপনার শোয়ার ঘরেও ঢুকে পড়েছে আপনাকে আরাম দিতে।