ওয়াক্সের স্ট্রিপ টানার সময় মনে হয় প্রাণটা বেরিয়ে যাবে। আর রেজার চালালেই পরের দিনই গজিয়ে যায় কালো কালো খোঁচা খোঁচা লোম। সাথে ফ্রি তে কাটা আর কালো দাগ। যদি বলি এই দুটোর কোনোটাই আর লাগবে না? হ্যাঁ, আজ এমন একটা ঘরোয়া টোটকা দেব যাতে না ব্যথা হবে, না জ্বলবে।
ওয়াক্সের স্ট্রিপ টানার সময় মনে হয় প্রাণটা বেরিয়ে যাবে। আর রেজার চালালেই পরের দিনই গজিয়ে যায় কালো কালো খোঁচা খোঁচা লোম। সাথে ফ্রি তে কাটা আর কালো দাগ। যদি বলি এই দুটোর কোনোটাই আর লাগবে না? হ্যাঁ, আজ এমন একটা ঘরোয়া টোটকা দেব যাতে না ব্যথা হবে, না জ্বলবে। উল্টে প্রতিবার ব্যবহারের সাথে সাথে আপনার ত্বক হবে আরও নরম, আরও উজ্জ্বল। আর সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য আপনাকে পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হবে না। এই জাদুটা হবে আপনার রান্নাঘর থেকেই।
এই টোটকার জন্য যা যা লাগবে
আপনার হেঁশেলেই আছে সব। প্রথমে লাগবে 2 চামচ বেসন। বেসন শুধু বড়া ভাজার জন্য না, এটা স্কিনের জন্যেও দারুণ। তারপর লাগবে হাফ চামচ কাঁচা হলুদ গুঁড়ো। হলুদ অ্যান্টি-সেপটিক, তাই জ্বালা-চুলকানির ভয় নেই। এবার এই দুটোকে মেশানোর জন্য লাগবে কাঁচা দুধ বা গোলাপ জল। যেটা আপনার হাতের কাছে আছে সেটাই নিন। শেষে অপশনাল হিসেবে 2 ফোঁটা নারকেল তেল দিতে পারেন। এতে ত্বক ড্রাই হবে না।
১৫ মিনিটে কীভাবে করবেন? ধাপে ধাপে জেনে নিন
প্রথম ধাপ: একটা পরিষ্কার বাটিতে বেসন আর হলুদ ভালো করে মিশিয়ে নিন। যাতে কোনো দলা না থাকে।
দ্বিতীয় ধাপ: এবার অল্প অল্প করে দুধ ঢালুন আর ঘন পেস্ট বান। পেস্টটা যেন বেশি পাতলাও না হয় আবার বেশি শক্তও না হয়। শেষে নারকেল তেল মিশিয়ে দিন।
তৃতীয় ধাপ: যে জায়গার লোম তুলবেন সেই জায়গা আগে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর পেস্টটা লোমের গ্রোথের উল্টো দিকে মোটা করে লাগান।
চতুর্থ ধাপ: 15 থেকে 20 মিনিট অপেক্ষা করুন। যতক্ষণ না পুরোটা টানটান হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চম ধাপ: এবার হাতটা জলে ভিজিয়ে নিন। তারপর আস্তে আস্তে গোল গোল করে ঘষে পেস্টটা তুলে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন ঘষাটা যেন লোমের গ্রোথের উল্টো দিকে হয়। শেষে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস! আয়নায় নিজেই নিজের ত্বক দেখে চমকে যাবেন।
তাহলে এটা কাজ করে কীভাবে?
অনেকেই সন্দেহ করেন ঘরোয়া জিনিসে কাজ হবে তো? 100% হবে। কারণ বেসন একটা ন্যাচারাল স্ক্রাব। এটা ডেড স্কিন আর লোমের গোড়া আলগা করে দেয়। হলুদ ত্বকের প্রদাহ কমায় আর ব্যাকটেরিয়া মারে। তাই ওয়াক্সের মতো লাল লাল র্যাশ ওঠে না। আর কাঁচা দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে। রেজারের মতো কালো দাগও পড়ে না।
ফল ভালো পেতে এই ৪টে টিপস মেনে চলুন
- নিয়ম করে করুন: সপ্তাহে ২ বার। টানা 1 মাস করলে দেখবেন নতুন লোম অনেক পাতলা আর কম গজাচ্ছে।
- প্যাচ টেস্ট মাস্ট: প্রথমবার ব্যবহারের আগে কানের পিছনে বা কনুইয়ে ১০ মিনিট লাগিয়ে দেখুন। এলার্জি না থাকলে তবেই পুরো জায়গায় লাগান।
- পরে ময়েশ্চারাইজ: লোম তোলার পর অ্যালোভেরা জেল বা নারকেল তেল লাগান। ত্বক আরও নরম থাকবে।
- রোদ এড়িয়ে চলুন: করার পর ২ ঘণ্টা সরাসরি রোদে যাবেন না।
আর নয় যন্ত্রণা। আর নয় কেমিক্যাল। আর নয় পার্লারের বিল। এই সহজ ৩টে ঘরোয়া উপকরণই পারে আপনাকে দিতে সিল্কি, মসৃণ, দাগহীন আর লোমমুক্ত ত্বক। তাও একদম নিজের ঘরে বসে।
