নীলচে-সবুজ রঙের চোখধাঁধানো ব্যাগে শুধু ডাইনোসরের চামড়া নয়, রয়েছে খাঁটি রুপো আর কালো হিরে। আভিজাত্যে যা হার মানাবে যে কোনও নামী ব্র্যান্ডকে। আমস্টারডামের মিউজিয়ামে এটি এখন একটি খাঁচার ভেতর বন্দি। 

বিশ্বের প্রথম ল্যাব-গ্রোন (ল্যাবরেটরিতে তৈরি) ডাইনোসরের চামড়ার আদলে তৈরি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ নিলামে উঠছে, যার দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। টি-রেক্স (T-Rex) ফসিল থেকে অনুপ্রাণিত এই ব্যাগটি আমস্টারডামের মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং এর নকশায় খাঁটি রুপো ও কালো হিরে ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রযুক্তি ও ফ্যাশনের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

'জুরাসিক পার্ক’-এর সেই হাড়হিম করা দানবকে ফ্যাশন মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে বিজ্ঞান। জ্যান্ত ডাইনোসর তো আর পাওয়া সম্ভব নয়, তাই মুশকিল আসান করেছে ল্যাবরেটরি। টি-রেক্সের জীবাশ্ম থেকে উদ্ধার হওয়া কোলাজেন ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করে ফেলেছেন আস্ত এক হ্যান্ডব্যাগ (Dinosaur Leather Handbag)। অতএব বিজ্ঞানের ঘরে জন্ম নিলো প্রাগৈতিহাসিক যুগে দাপিয়ে বেড়ানো ডাইনোসরের চামড়ার ব্যাগ। যেটি এখন ঝুলতে পারে আপনার কাঁধে।

বিস্তারিত আলোচনা:

* উপাদান ও প্রযুক্তি: এই ব্যাগটি আসলে মৃত ডাইনোসরের সরাসরি চামড়া নয়, বরং বিজ্ঞানীরা টি-রেক্সের ফসিল থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন (Collagen) ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে এই চামড়া তৈরি করেছেন । ভিএমএল (VML), দ্য অর্গানয়েড কোম্পানি, এবং ল্যাব-গ্রোন লেদার লিমিটেড-এর মতো সংস্থাগুলি যৌথভাবে এই যুগান্তকারী কাজটি করেছে ।

* কোথায় দেখা যাবে: নীলচে-সবুজ বা টিল রঙের এই চোখধাঁধানো ব্যাগটি বর্তমানে আমস্টারডামের 'আর্ট জু' (Art Zoo) মিউজিয়ামে একটি খাঁচার ভেতর, একটি পাথরের ওপর, টি-রেক্সের কঙ্কালের নিচে প্রদর্শিত হচ্ছে।

* নিলাম ও দাম: মে মাস পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে, এরপরই এটি নিলামে তোলা হবে । এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে প্রায় $৫০০,০০০ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকার উপরে ।

কেন এটি এত বিশেষ? এটি শুধুমাত্র একটি ব্যাগ নয়, বরং এটি জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ নিয়ে তৈরি প্রযুক্তির এক চরম নিদর্শন। এটি সাধারণ চামড়ার বিকল্প হিসেবে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও বিলাসবহুল পণ্যের একটি নতুন যুগের সূচনা করছে।