হার্টে ব্লকেজ বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধমনীতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল জমার কারণে হয়, যা রক্ত চলাচল ব্যাহত করে। এর ফলে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। 

আজকাল অনেকের মধ্যেই হার্ট ব্লকেজের সমস্যা দেখা যায়। এই ব্লকেজ বাড়লে হার্ট অ্যাটাক ও পরে হার্ট ফেলিওরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। হার্টের সিস্টেমে কোনও সমস্যা হলে হার্ট ব্লকেজ ঘটে। করোনারি আর্টারি ডিজিজ, যা করোনারি ধমনীকে প্রভাবিত করে, হার্টে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত করে।

হার্টের পেশিতে রক্ত চলাচল কমে গেলে তার কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়। সাধারণত ধমনীর দেওয়ালে ফ্যাট, কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ জমে এই ব্লকেজ তৈরি হয়। এই অবস্থাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়।

এই জমে থাকা প্ল্যাক ধমনীকে সরু করে দেয়। এর ফলে হার্টে রক্তপ্রবাহের অভাব থেকেই মূলত লক্ষণগুলো দেখা দেয়। ধমনী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ।

বুকে চাপ বা হালকা আঁটসাঁট অনুভূতি হওয়াটা এর প্রথম লক্ষণ। মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা হওয়াকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পর বা কথা বলার সময় শ্বাসকষ্ট হওয়াটা আরেকটি লক্ষণ। এর মানে হল, হার্ট ঠিকমতো অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না।

কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই, এমনকি বিশ্রামের পরেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি বোধ করা হার্ট ব্লকেজের কারণে হতে পারে। ধমনী সরু হয়ে যাওয়ায় শরীরকে পর্যাপ্ত রক্ত জোগান দিতে হার্ট হিমশিম খেলে এটা হয়। সাধারণ কাজ করতেও এই ক্লান্তি বাড়তে পারে।

বুকে ব্যথার পাশাপাশি প্রচণ্ড ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি। এর সঙ্গে দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টও হতে পারে। ব্লকের ধরন ও সংখ্যা অনুযায়ী অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যাও হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত দিতে পারে। এগুলোকে পেটের সমস্যা মনে হলেও, আসলে ইসকেমিয়ার কারণে ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি সাধারণত বুকের অস্বস্তির সঙ্গেই ঘটে।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এর আরেকটি লক্ষণ। হার্টবিট স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত (Tachycardia), ধীর (Bradycardia) বা ছন্দহীন হতে পারে। এর প্রধান লক্ষণগুলো হল বুকে ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং ক্লান্তি।