চুল পাতলা হওয়ার আসল কারণ শ্যাম্পু বা সিরাম নয়, দৈনন্দিন অভ্যাস। পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত স্ট্রেস, কম ঘুম, হিট স্টাইলিং আর কেমিক্যালের ব্যবহার চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। পাশাপাশি জল কম খাওয়া, স্ক্যাল্প অপরিষ্কার থাকা এবং হরমোনের সমস্যাও চুল ঝরার জন্য দায়ী।
হেয়ার কেয়ার বাজারে শ্যাম্পু ও সিরামের বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। তবুও চুল পাতলা হওয়া ও অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দিনে দিনে বাড়ছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মতে, বাইরের প্রোডাক্ট সাময়িক স্বস্তি দিলেও চুলের আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে।
পুষ্টির অভাব চুল পাতলা হওয়ার প্রধান কারণ। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে চুলের বৃদ্ধি থমকে যায়। বর্তমান প্রজন্ম ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের উপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে ঝরে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব চুলের স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি আঘাত করে। হরমোন চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেলকে নষ্ট করে দেয়। রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরের কোষ পুনর্জন্মের সুযোগ পায় না। তার প্রভাব পড়ে চুলের ঘনত্ব ও উজ্জ্বলতার উপর।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং ও কেমিক্যালের ব্যবহার চুলের ফলিকলকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত হেয়ার স্ট্রেটনার, ব্লো ড্রায়ার বা হেয়ার কালার ব্যবহার করলে চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিন ভেঙে যায়। একইভাবে টাইট করে চুল বাঁধার অভ্যাসও চুলের গোড়া আলগা করে দেয় এবং ব্রেকেজ বাড়ায়।
চতুর্থত, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া ও স্ক্যাল্পের অপরিচ্ছন্নতা চুল পাতলা করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শরীরে জলের পরিমাণ কমলে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। তেল ও ময়লা জমে ফলিকলের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
পঞ্চমত, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও জেনেটিক কারণও দায়ী। থাইরয়েডের সমস্যা, পিসিওএস বা বংশগত কারণে অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক প্রোডাক্টে কোনো কাজ হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘন ও মজবুত চুলের জন্য জীবনযাপনের রুটিন বদলানো অপরিহার্য। সুষম খাদ্য, সাত ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং স্ক্যাল্পের নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, এই পাঁচটি অভ্যাস মেনে চললেই চুল নিজে থেকেই স্বাস্থ্যকর ও ঘন হয়ে ওঠে।


