Parenting Tips: থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেলের মতো জিনগত রোগ বাচ্চার মধ্যে যাতে না আসে, তাই মা-বাবা হওয়ার আগেই কিছু পরীক্ষা করানো জরুরি। ICMR নতুন গাইডলাইনে কোন কোন স্ক্রিনিংয়ের কথা বলেছে জানুন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Parenting Tips: "বিয়ে হলেই বাচ্চা" - এই ধারণা থেকে এখন অনেকেই বেরিয়ে আসছেন। ডাক্তাররাও বলছেন, প্ল্যান করে মা-বাবা হলে বাচ্চা এবং মা দুজনেই সুস্থ থাকেন। আর এই প্ল্যানিংয়ের সবচেয়ে জরুরি অংশ হল "প্রি-কনসেপশন স্ক্রিনিং" বা গর্ভধারণের আগের পরীক্ষা।

সম্প্রতি ICMR অর্থাৎ ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ নতুন গাইডলাইন দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই কিছু জিনগত এবং শারীরিক পরীক্ষা করানো উচিত। এর ফলে অনেক জিনগত রোগ, গর্ভপাত আর জন্মগত ত্রুটি অনেকটাই আটকানো সম্ভব।

মা হওয়ার আগে জিনের পরীক্ষা কেন এত জরুরি?

আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু রোগের "ক্যারিয়ার" হতে পারি। ক্যারিয়ার মানে, আমাদের শরীরে সেই রোগের জিন আছে কিন্তু আমাদের কোনো উপসর্গ নেই। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি একই রোগের ক্যারিয়ার হন, তাহলে বাচ্চার সেই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%।

উদাহরণ: থ্যালাসেমিয়া। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, গুজরাটে এই রোগ খুব বেশি। বাবা-মা দুজনেই ক্যারিয়ার হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া মেজর হতে পারে। যার জন্য সারাজীবন রক্ত নিতে হয়।

আগে থেকে পরীক্ষা করে জানলে, IVF বা দত্তক নেওয়ার মতো বিকল্প ভাবা যায়। এমনকি গর্ভাবস্থায় আগেই ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা যায়।

ICMR কোন ‘স্ক্রিনিং’-এর পরামর্শ দিয়েছে?

ICMR ২০২৫-এর নতুন গাইডলাইনে ৩ ধরনের স্ক্রিনিং-এর কথা বলেছে।

১. জিনগত ক্যারিয়ার স্ক্রিনিং

এটা রক্তের DNA টেস্ট। একবার করালেই হয়। এর মাধ্যমে ১০টির বেশি জিনগত রোগ ধরা যায়। ICMR বিশেষ করে এই ৪টি রোগের টেস্টের উপর জোর দিয়েছে।

- থ্যালাসেমিয়া: রক্তাল্পতার সবচেয়ে কমন জিনগত কারণ।

- সিকল সেল অ্যানিমিয়া: আদিবাসী এবং কিছু নির্দিষ্ট সমাজে বেশি দেখা যায়।

- SMA বা Spinal Muscular Atrophy: বাচ্চাদের পেশি দুর্বল হওয়ার কারণ।

- ডাউন সিন্ড্রোম সহ অন্যান্য ক্রোমোজোমের সমস্যা: বয়স ৩৫-এর বেশি হলে এই রিস্ক বেশি।

২. সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে এই ইনফেকশন থাকলে বাচ্চার বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই এই টেস্টগুলো মাস্ট।

- HIV, Hepatitis B, Hepatitis C, Syphilis

- Rubella: এই ভাইরাস থাকলে বাচ্চার হার্ট, চোখ, কানের সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভের আগে টিকা নিয়ে নেওয়া ভালো।

- Toxoplasma, CMV: বিড়ালের সংস্পর্শ বা কাঁচা খাবার থেকে হয়।

৩. হরমোন এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের স্ক্রিনিং

- থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, BP: এই ৩টে অনিয়ন্ত্রিত থাকলে গর্ভপাতের রিস্ক বাড়ে।

- PCOS, এন্ডোমেট্রিওসিস: যাদের মাসিক অনিয়মিত তাদের এই টেস্ট দরকার।

- ফলিক অ্যাসিড লেভেল: গর্ভের আগে ৩ মাস ফলিক অ্যাসিড খেলে বাচ্চার Spina Bifida-র মতো নিউরাল টিউব ডিফেক্ট ৭০% কমে যায়।

- BMI, ভিটামিন D, ভিটামিন B12 চেক করাও জরুরি।

কে কখন এই পরীক্ষা করাবেন?

ICMR বলছে, বিয়ের পর এবং বাচ্চা প্ল্যান করার ৩ মাস আগে থেকেই এই স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত। বিশেষ করে যদি পরিবারে থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত ত্রুটি বা গর্ভপাতের ইতিহাস থাকে তাহলে অবশ্যই করাবেন। খরচ ৩০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে প্যাকেজ অনুযায়ী। অনেক সরকারি হাসপাতালেও এখন বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া এবং HIV টেস্ট হয়।

মা হওয়া শুধু আনন্দের নয়, এটা একটা দায়িত্বও। ৯ মাসের জন্য অপেক্ষা না করে, প্ল্যান করার ৩ মাস আগেই নিজের শরীরকে তৈরি করুন। একটা ছোট রক্ত পরীক্ষা, একটা বাচ্চার গোটা জীবন বদলে দিতে পারে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।