দেখতে গাছের মতো কিন্তু কাজ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো। একটা সোলার ট্রি কীভাবে 10টা বাড়ির কারেন্ট দিচ্ছে, দাম কত আর সরকার কী সুবিধা দিচ্ছে জানুন।

গাছ দেখলে আমরা কী ভাবি? অক্সিজেন, ছায়া, পাখি। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা গাছকে বানিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নাম "সোলার ট্রি"। দেখতে হুবহু গাছের মতো, উচ্চতা 4 মিটার। কিন্তু এর প্রতিটা "পাতা" হল একটা করে সোলার প্যানেল। আর এই গাছ দিনে 50-60 ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে।

সোলার ট্রি আসলে কীভাবে কাজ করে?

সোলার ট্রির গোড়া হল স্টিলের খুঁটি। তার উপর 360 ডিগ্রি ঘোরা যায় এমন ডাল লাগানো থাকে। প্রতিটা ডালে ছোট ছোট PV প্যানেল। সকাল থেকে সন্ধে সূর্য যেদিকে ঘোরে, প্যানেলগুলোও সেদিকে ঘুরে যায়। ফলে সাধারণ ছাদের প্যানেলের থেকে 10-15% বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তৈরি হওয়া DC কারেন্ট ব্যাটারিতে জমা হয়, ইনভার্টার সেটাকে AC করে বাড়িতে সাপ্লাই দেয়।

সোলার ট্রির 7টি অবাক করা বিশেষত্ব:

1. জায়গা বাঁচায় 100 গুণ বেশি

400 বর্গফুটের সোলার প্যানেল যা বিদ্যুৎ দেয়, সোলার ট্রি তা মাত্র 4 বর্গফুটে দেয়। কলকাতার ফ্ল্যাটের ছোট ছাদের জন্য এটা বেস্ট সলিউশন।

2. 24 ঘণ্টা ব্যাকআপ

দিনে তৈরি বিদ্যুৎ লিথিয়াম ব্যাটারিতে স্টোর হয়। রাতে, মেঘলা দিনে বা লোডশেডিং হলেও টানা কারেন্ট পাবেন।

3. স্মার্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম

প্যানেলগুলো নিজে থেকে সূর্যের দিকে ঘোরে। আবার ধুলো পড়লে বৃষ্টির জলে নিজে থেকেই ধুয়ে যায়। ম্যানুয়াল পরিষ্কারের ঝামেলা নেই।

4. অল-ইন-ওয়ান ফিচার

গাছের নিচে বসার বেঞ্চ, LED স্ট্রিট লাইট, 4টে USB চার্জিং পোর্ট, WiFi হটস্পট, এমনকি CCTV ক্যামেরাও লাগানো যায়। স্কুল-পার্কের জন্য পারফেক্ট।

5. পরিবেশ বান্ধব + লং লাইফ

কার্বন এমিশন জিরো। একবার লাগালে 25 বছর চলবে। বছরে 2 বার সার্ভিসিং করালেই হল।

6. ঝড়-বৃষ্টিতেও শক্তপোক্ত

100 কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত ঝড় সহ্য করতে পারে। জং ধরবে না এমন গ্যালভানাইজড স্টিল দিয়ে তৈরি। বন্যা হলেও নষ্ট হয় না।

7. সরকার দিচ্ছে 30% সাবসিডি

MNRE-এর অধীনে গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে 30% পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আলাদা করে WBSEDCL-এর মাধ্যমে লোন দিচ্ছে।

দাম কত আর কারা লাগাতে পারবে?

একটা 5KW সোলার ট্রির দাম 5.5 থেকে 7 লক্ষ টাকা। সাবসিডির পর পড়বে 3.8 থেকে 4.9 লক্ষ।

কে লাগাতে পারবে: স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প, অফিস, পার্ক, ফ্যাক্টরি আর বড় বিল্ডিং এর ছাদ।

মাসে 3000-4000 টাকা বিল বাঁচলে 4-5 বছরে আসল টাকা উঠে যাবে। বাকি 20 বছর পুরো লাভ।

ভারতে কোথায় কোথায় আছে?

CSIR-CMERI দুর্গাপুরে প্রথম বানিয়েছে। এখন কলকাতার ইকো পার্ক, নিউটাউন, দিল্লির India Gate, গুজরাটের স্মার্ট সিটিতে লাগানো আছে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতেও পাইলট প্রজেক্ট চলছে।

জমি নেই, ছাদ ছোট, তবুও সোলার চাই? সোলার ট্রিই উত্তর। একটা গাছ লাগান, 10টা বাড়ির আলো জ্বালান। গাছ কাটুন না, গাছ লাগিয়ে বিদ্যুৎ বানান।