শীতকাল মানেই গাঁদা ফুলের মরশুম, এই ধারণা এখন অতীত। বিশেষ হাইব্রিড প্রজাতির চাষ করে সারা বছর গাঁদা ফুল ফোটাচ্ছেন চাষিরা। কম খরচে বেশি লাভের এই চাষেই এখন হাসি ফুটছে কৃষকদের মুখে।

আগে গাঁদা ফুল মানেই শীতের ফুল। শীতকালে গাছ ভরে ফুল ফুটত, আর গরম পড়লেই গাছ শুকিয়ে যেত। কিন্তু এখন ছবিটা পুরো বদলে গেছে। বিশেষ প্রজাতির গাঁদা চাষ করে সারা বছর ফুলে ফুলে উপচে পড়ছে গাছ, আর তাতেই তাক লাগাচ্ছেন চাষিরা।

এই বিশেষ প্রজাতির নাম বারোমাসি বা হাইব্রিড গাঁদা। যেমন - বেঙ্গল বিউটি, পুসা নারঙ্গি, ইনকা অরেঞ্জ এবং ইয়েলো। এই জাতগুলি আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। প্রচন্ড গরম বা বর্ষাতেও গাছ নষ্ট হয় না, ফুলের আকারও বড় হয় এবং রঙও থাকে টকটকে হলুদ বা কমলা।

কেন এই চাষে এত লাভ?

১. সারা বছর চাহিদা: পুজো, বিয়ে, অনুষ্ঠান - গাঁদা ফুলের চাহিদা সারা বছর। তাই শীত ছাড়াও বাকি সময় দাম থাকে অনেক বেশি। ২. ফলন বেশি: সাধারণ গাঁদার থেকে এই হাইব্রিড গাঁদার ফলন ২-৩ গুণ বেশি। একটি গাছ থেকেই ২-৩ কেজি পর্যন্ত ফুল পাওয়া যায়। ৩. কম সময়ে ফুল: চারা লাগানোর মাত্র ৪৫-৫০ দিনের মধ্যেই ফুল আসতে শুরু করে। ৪. কম রোগ: এই প্রজাতিগুলিতে রোগ পোকার আক্রমণ অনেক কম।

চাষের সহজ পদ্ধতি: ভালো ফলন পেতে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। জমি ভালো করে চাষ দিয়ে গোবর সার মিশিয়ে নিতে হবে। চারা থেকে চারার দূরত্ব রাখতে হবে ১.৫ ফুট। নিয়মিত জল দিতে হবে, তবে জল যেন জমে না থাকে। প্রথম ফুল তোলার পর গাছের ডগা কেটে দিলে পাশ থেকে আরও অনেক ডাল বের হয় এবং ফুলের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

এখন অনেক শিক্ষিত যুবকও ফুল চাষে আসছেন। কম পুঁজিতে বেশি লাভের জন্য এই বারোমাসি গাঁদা চাষ হতে পারে একটি দারুণ বিকল্প। এক বিঘা জমিতে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন অনেক চাষি।