শীত আসছে। এখন থেকেই অনেকের ঠান্ডা, গরম বা টক কিছু খেলেই দাঁতে শিরশিরানি হচ্ছে। সঙ্গে মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত ও গালে যন্ত্রণা। শুধু ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? সাবধান! এই সামান্য শিরশিরানি হতে পারে ৩টি বড় রোগের আগাম সংকেত।
শীতের শুরুতেই আইসক্রিম বা ঠান্ডা জল খেলে দাঁত শিরশির করে ওঠা, গরম চা খেতে গেলেও একই কষ্ট, আর টক খেলে তো দাঁত-মাড়ি টনটন করে - এই সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। সঙ্গে মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্রাশ করতে গেলে রক্ত পড়া। আমরা ভাবি, হয়তো ঠান্ডা লেগেছে বা বেশি ঠান্ডা খাওয়া হয়েছে। কিন্তু দন্ত চিকিৎসকরা বলছেন, এটি মোটেও সাধারণ ব্যাপার নয়। এটি হতে পারে ৩টি রোগের লক্ষণ।
*১. এনামেল ক্ষয় বা দাঁতের সংবেদনশীলতা (Enamel Erosion / Sensitive Teeth)*
এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
আমাদের দাঁতের ওপরে থাকে শক্ত এনামেলের আস্তরণ। অতিরিক্ত টক খাবার, কোল্ড ড্রিংকস, দাঁত ঘষে ঘষে ব্রাশ করা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে এই এনামেল ক্ষয়ে যায়। এনামেল পাতলা হয়ে গেলে ভিতরের ডেন্টিন বেরিয়ে পড়ে। তখন ঠান্ডা, গরম, টক, মিষ্টি - সবকিছুতেই শিরশিরানি হয়।
*লক্ষণ:* ঠান্ডা-গরম খেলেই ২-৩ সেকেন্ডের তীব্র শিরশিরানি, তারপর কমে যাওয়া।
*২. মাড়ির রোগ বা জিনজিভাইটিস ও পেরিওডোনটাইটিস (Gum Disease)*
আপনার মাড়ি কি ফুলে গেছে? লাল হয়ে আছে? ব্রাশ করলে রক্ত পড়ে?
তাহলে এটি মাড়ির রোগ। দাঁতে জমে থাকা প্লাক ও টার্টার থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়ে মাড়ি ফুলে যায়। মাড়ি ফুলে দাঁতের গোড়া থেকে সরে গেলে দাঁতের শিকড় বেরিয়ে পড়ে, তখন ঠান্ডা-গরমে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি পেরিওডোনটাইটিস হয়ে দাঁত নড়ে যেতে পারে।
*লক্ষণ:* মাড়ি ফোলা, লাল ভাব, মুখে দুর্গন্ধ, ব্রাশে রক্ত, দাঁত শিরশিরের সঙ্গে গালে ব্যথা।
*৩. দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি ও দাঁত ফাটল (Cavity / Cracked Tooth)*
একটি দাঁতে বারবার টক বা মিষ্টি খেলে শিরশির করছে? বা কামড় দিলে এক জায়গায় তীব্র ব্যথা?
এর কারণ হতে পারে দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি। গর্ত গভীর হয়ে নার্ভের কাছে পৌঁছে গেলে ঠান্ডা-গরম লাগলেই তীব্র যন্ত্রণা হয়। অনেক সময় বাইরে থেকে গর্ত দেখা যায় না। আবার শক্ত কিছু কামড়ে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল ধরলেও একই রকম শিরশিরানি হয়।
*লক্ষণ:* একটা বা দুটো নির্দিষ্ট দাঁতে খাবার আটকে যাওয়া, টক-মিষ্টিতে দীর্ঘক্ষণ ব্যথা থাকা, কামড় দিলে চিনচিনে ব্যথা।
*কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?*
- শিরশিরানি ১ সপ্তাহের বেশি থাকলে
- মাড়ি ফুলে রক্ত পড়লে
- দাঁতে কালো দাগ বা গর্ত দেখলে
- ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা গাল ফুলে গেলে
*ঘরোয়া যত্নে কী করবেন?*
১. নরম ব্রিসলের ব্রাশ দিয়ে দিনে ২ বার ব্রাশ করুন, খুব জোরে ঘষবেন না।
২. সেনসিটিভ দাঁতের জন্য বিশেষ টুথপেস্ট (Potassium Nitrate যুক্ত) ব্যবহার করুন।
৩. অতিরিক্ত টক, কোল্ড ড্রিংকস, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪. দিনে একবার ফ্লস করুন এবং ৬ মাস অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে স্কেলিং করান।
ঠান্ডা-গরমে দাঁত শিরশিরানি কে "সিজনাল" ভেবে ফেলে রাখবেন না। শীত আসার আগেই দাঁতের চেক-আপ করিয়ে নিন, না হলে পরে রুট ক্যানেল পর্যন্ত গড়াতে পারে।






