বর্ষায় রাস্তার ফুচকা খেলেই পেটের অসুখ কনফার্ম! কী বলছেন চিকিৎসকেরা জেনে নিন

ফুচকা বাঙালির অন্যতম প্রিয় স্ট্রিট ফুড। তবে বর্ষাকালে রাস্তার খাবার, বিশেষ করে টক জলযুক্ত ফুচকা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, দূষিত জল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং খাদ্য প্রস্তুতির অনিরাপদ পদ্ধতির কারণে পেটের সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঝুঁকি ১: খোলা অবস্থায় রাখা টক জল

অনেক ক্ষেত্রে ফুচকার টক জল দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়। এতে ধুলোবালি, দূষিত কণা, এমনকি মাছি বা অন্যান্য পোকামাকড়ের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। পরিবেশগত দূষণের কারণে জলে ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশ করতে পারে, যা পেটে সংক্রমণ, ডায়রিয়া বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণ হতে পারে।

ঝুঁকি ২: ব্যবহৃত বরফের মান

ঠান্ডা রাখার জন্য অনেক দোকানে বরফ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই বরফ যদি বিশুদ্ধ বা নিরাপদ পানীয় জল থেকে তৈরি না হয়, তাহলে তা জীবাণুর বাহক হতে পারে। দূষিত জল থেকে তৈরি বরফ খাবারের সঙ্গে মিশে গেলে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

ঝুঁকি ৩: খাদ্য প্রস্তুতিতে স্বাস্থ্যবিধির অভাব

অনেক সময় দেখা যায়, একই ব্যক্তি একদিকে টাকা নিচ্ছেন এবং অন্যদিকে খাবার পরিবেশন করছেন। পাশাপাশি ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা বা অন্যান্য উপকরণ যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা হলে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। অপরিষ্কার হাত বা দূষিত উপকরণের মাধ্যমে সালমোনেলা, শিগেলা-সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে প্রবেশ করতে পারে।

বর্ষাকালে ঝুঁকি কেন বাড়ে?

বর্ষার সময়ে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং অনেক এলাকায় জল জমে যায়। এই পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশের কারণে খাদ্য ও পানীয় দূষিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ফলে বর্ষাকালে রাস্তার খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

নিরাপদে ফুচকা খাওয়ার জন্য ৪টি পরামর্শ ১. বর্ষাকালে সতর্ক থাকুন

জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাস্তার টক জলযুক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। যাঁদের পেট সংবেদনশীল, তাঁরা এ সময়ে রাস্তার ফুচকা এড়িয়ে চলতে পারেন।

২. দোকান নির্বাচন করুন বুঝেশুনে যেখানে ক্রেতার ভিড় বেশি এবং খাবার দ্রুত বিক্রি হয়, সেই ধরনের দোকান বেছে নিন। বরফ ছাড়া টক জল চাইতে পারেন। সম্ভব হলে বিশুদ্ধ বা বোতলজাত জল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কি না, সেটিও লক্ষ্য করুন। ৩. বাড়িতে তৈরি ফুচকা হতে পারে নিরাপদ বিকল্প

বাড়িতে ফোটানো বা বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করে টক জল তৈরি করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তেঁতুল ভিজিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে বিট নুন, ভাজা মশলা, ধনেপাতা ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে সহজেই ঘরোয়া ফুচকা তৈরি করা যায়।

৪. উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না

ফুচকা খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে এক দিনের মধ্যে যদি—

পেট ব্যথা, বমি, ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, জ্বর, দুর্বলতা

ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত ওআরএস (ORS) খাওয়া শুরু করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ফুচকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপদ জল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুত খাবার বেছে নেওয়া জরুরি। সামান্য সতর্কতাই বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।