জাপান-চিনের পর এবার ভারতেও টেস্টিং শুরু "রোবট বাথরুম" বা Mobile Toilet Pod-এর। এটা একটা ছোট, সেলফ-ড্রাইভিং টয়লেট কিউব। হুইলচেয়ারের মতো চাকা লাগানো।

রাত ৩টে। ঘুম ভেঙে টয়লেট পেয়েছে। বাথরুম দোতলায়। হাঁটুতে ব্যথা। উঠে যেতে ইচ্ছে করছে না। এবার থেকে এই ঝামেলা শেষ। চিনের এক স্টার্টআপ আর জাপানের প্যানাসনিক মিলে বানিয়েছে "রোবট বাথরুম"। দেখতে ছোট একটা কিউব বা এলিভেটরের মতো। ভেতরে যেকমোড, ওয়াশবেসিন, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা সব। কিন্তু ম্যাজিক হলো চাকায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রোবট বাথরুম কীভাবে কাজ করে?

১. আপনার কাছে চলে আসবে ফোনে অ্যাপ আছে বা ঘরে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে। বলবেন "Alexa, Bathroom please" বা অ্যাপে লোকেশন পিন করবেন। ব্যাস। রোবট বাথরুম সেন্সর আর AI দিয়ে নিজেই লিফট ব্যবহার করে, দরজা খুলে, আপনার বেডরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াবে। গুগল ম্যাপের মতো পথ চেনে, মানুষ দেখলে নিজে সাইড দেয়।

২. ভেতরটা ফাইভ স্টার হোটেল ভেতরে ঢুকলেই অটো লাইট জ্বলবে। কমোড হিটেড, শীতে ঠান্ডা লাগবে না। অটো ফ্লাশ, অটো সিট ক্লিন। ইউজ করার পর UV লাইট + ন্যানো মিস্ট স্প্রে দিয়ে ৩০ সেকেন্ডে পুরো স্যানিটাইজ। এয়ার পিউরিফায়ার আছে, তাই গন্ধ থাকবে না। ছোট ফ্যান, মিউজিক প্লেয়ারও আছে।

৩. ইমার্জেন্সি সেফটি বয়স্ক মানুষ পড়ে গেলে? ভেতরে সেন্সর আছে। ৩০ সেকেন্ড নড়াচড়া না দেখলেই অটো পরিবারের ফোনে অ্যালার্ট যাবে। ইমার্জেন্সি বাটন টিপলেই দরজা খুলে যাবে বাইরে থেকে। হুইলচেয়ার নিয়েও ঢোকা যাবে। দরজা স্লাইডিং, জায়গা বেশি।

কারা সবচেয়ে উপকৃত হবে?

১. বয়স্ক মানুষ + প্যারা্লাইসিস রোগী রাতে বাথরুমে যেতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কোমর ভাঙার ঘটনা কম না। রোবট বাথরুম ঘরেই চলে এলে হাঁটার রিস্ক ৯০% কমে যাবে। কেয়ারগিভারের ওপর চাপও কমবে।

২. হাসপাতাল + নার্সিং হোম একটা ফ্লোরে ১০টা বেড, ২টো টয়লেট। রোগীদের লাইন লেগে যায়। রোবট বাথরুম ৩-৪টে থাকলে "টয়লেটের জন্য ডাকাডাকি" বন্ধ। নার্সরা অন্য কাজে ফোকাস করতে পারবে।

৩. অফিস + ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বড় কনফারেন্স, বিয়ে বাড়ি - লাইনে দাঁড়িয়ে টয়লেটের জন্য সময় নষ্ট। ২-৩টে রোবট বাথরুম ভাড়া নিলে সমস্যা মিটে যাবে। মিটিং চলাকালীন একজন বেরিয়ে যাবে, রোবট তার কাছে চলে যাবে।

দাম কত? সাধারণ মানুষ কিনতে পারবে? সত্যি বলতে এখনও দাম আকাশ ছোঁয়া। একটা রোবট বাথরুমের দাম ১৫-২০ লাখ টাকা। কারণ লিডার সেন্সর, AI চিপ, ব্যাটারি সব দামি। তাই এখন হাসপাতাল, বড় অফিস, যেপাঁচতারা হোটেলই ভাড়া নিচ্ছে। ঘণ্টা ৫০-১০ টাকা ভাড়া।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইলের মতোই দাম কমবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২-৩ লাখের মধ্যে ঘরোয়া ভার্সন চলে আসবে। তখন মধ্যবিত্ত বাড়িতেও একটা করে থাকবে।

ভারতে কবে আসবে? বেঙ্গালুরু আর দিল্লির ২টো হাসপাতালে পাইলট প্রজেক্ট চলছে। কলকাতার AMRI, অ্যাপোলোও টেস্ট করছে। ২০২৭-এর মধ্যে মেট্রো শহরের বড় হাসপাতালে দেখতে পাবেন।

একটা মজার ঘটনা: টোকিওতে এক অফিসে রোবট বাথরুম ঢুকেছে। কর্মীরা প্রথমে লজ্জা পেত। এখন ঝগড়া লাগে "আমার কাছে আগে পাঠা" বলে। নাম দিয়েছে "টয়লেট-কুন"।

শেষ কথা: টেকনোলজি এগোচ্ছে মানুষের অসুবিধা কমানোর জন্য। রোবট বাথরুম শুনে হাসি পেলেও, যার বাবা-মা হাঁটতে পারেন না, তার কাছে এটা আশীর্বাদ।