চিকিৎসকদের মতে, অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া শুধু একটি সাধারণ সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় রাতে ঘুম না আসার সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া শুধু একটি সাধারণ সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্মক্ষমতা কমে যায়, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ঘুম না আসার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানুষের মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত সক্রিয় রাখে, যার ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।

এছাড়া ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে না।

চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপনও অনিদ্রার বড় কারণ। প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, রাতের বেলা ভারী খাবার খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতাও ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, থাইরয়েডজনিত সমস্যা, বিষণ্নতা কিংবা উদ্বেগজনিত রোগের কারণে অনেকেই রাতে পর্যাপ্ত ঘুম পান না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি অনুসরণ করা, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিদিন কিছু সময় শরীরচর্চা করার মাধ্যমে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রার সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুমের সমস্যাকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব