গরমে এসি অন-অফ করার অভ্যাস সবারই আছে। কিন্তু এসির ভিতরে লুকিয়ে আছে একটা '৩ মিনিটের নিয়ম'। এই নিয়ম না মানলে কম্প্রেসার নষ্ট হবে আর প্রতি মাসে বিলও ফুলে যাবে।

রোদ থেকে ঘরে ঢুকেই আমরা প্রথমে কী করি? রিমোট হাতে নিয়ে এসি ১৬ ডিগ্রিতে ফুল ফ্যানে চালিয়ে দিই। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা লেগে গেলে বন্ধ। আবার একটু পর গরম লাগলে আবার অন। এই অন-অফ খেলাটা আমরা প্রায় সবাই খেলি। ভাবি এতে কারেন্ট বাঁচবে। কিন্তু এসির মিস্ত্রি আর কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন এই একটা অভ্যাসই আপনার এসির সবচেয়ে দামি পার্টস মানে কম্প্রেসারকে শেষ করে দিচ্ছে। আর তার সাথে পকেটও।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আসলে এসির সাথে জড়িয়ে আছে একটা গোপন '৩ মিনিটের নিয়ম'। ৯৯ শতাংশ মানুষ এটা জানেই না। আর না জানার ফল ভোগ করে সার্ভিসিং আর বিদ্যুতের বিলের মাধ্যমে।

এই '৩ মিনিটের নিয়ম' টা খুব সোজা। এসি বন্ধ করার পর আবার অন করার আগে কমপক্ষে ৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। মানে আপনি যদি সুইচ অফ করেন, তাহলে ৩ মিনিটের মধ্যে আবার অন করবেন না। রাগ করে বা তাড়াহুড়ো করে রিমোট টিপাটিপিও চলবে না।

এবার প্রশ্ন হল কেন ৩ মিনিট অপেক্ষা করতেই হবে? এর পুরো কারণ লুকিয়ে আছে এসির হার্ট মানে কম্প্রেসারের মধ্যে। কম্প্রেসারের কাজ হল এসির ভিতরের ফ্রেয়ন গ্যাসকে চাপ দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া বের করা। যখন আপনি এসি বন্ধ করেন তখন কম্প্রেসারের ভিতরে একদিকে হাই প্রেসার আর একদিকে লো প্রেসার তৈরি হয়। বন্ধ করার সাথে এই দুটো প্রেসার সমান হতে প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে।

এই সময়ের মধ্যে যদি আপনি আবার এসি চালিয়ে দেন তাহলে কম্প্রেসারকে তৈরি না হওয়া প্রেসারের বিরুদ্ধে জোর করে কাজ করতে হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষায় একে বলে শর্ট সাইক্লিং। এর ফলে প্রথমেই কম্প্রেসারের ওপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে কম্প্রেসার দুর্বল হয়ে যায় এবং একসময় পুরো খারাপ হয়ে যায়। আর কম্প্রেসার বদলাতে গেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ। দ্বিতীয়ত প্রেসার ব্যালেন্স না থাকলে এসি ঠান্ডা করতে অনেক বেশি কারেন্ট টানে। ফলে মাসের শেষে বিল দেখে মাথা ঘুরবে। তৃতীয়ত এসি থেকে কটকট আওয়াজ আসবে আর ঠান্ডাও আগের মতো হবে না।

এর সাথে আরো একটা ৩ মিনিটের নিয়ম আছে যেটা আমরা কেউ মানি না। সেটা হল এসি অন করার পরের ৩ মিনিট। ঘরে ঢুকেই অনেকে ১৬ ডিগ্রি আর ফ্যান ফুল স্পিড করে দেন। এটা করবেন না। এসি অন করার পর প্রথম ৩ মিনিট ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রিতে আর মিডিয়াম ফ্যানে চালান। ঘরটা একটু ঠান্ডা হতে দিন। তারপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ২২-২৩ এ নামান। এতে কম্প্রেসারের ওপর হঠাৎ ঝটকা লাগে না। মেশিনও ভালো থাকে আর ঘরও সমানভাবে ঠান্ডা হয়।

তাহলে সঠিক নিয়মটা কী দাঁড়ালো? ঘরে ঢুকে প্রথমে জানলা দরজা বন্ধ করুন। এসি অন করে ২৪ ডিগ্রি আর মিডিয়াম ফ্যানে ৩ মিনিট ছেড়ে দিন। তারপর প্রয়োজন হলে তাপমাত্রা কমান। আর বেরোনোর সময় এসি বন্ধ করার পর ৩ মিনিটের মধ্যে আবার ঢুকে অন করবেন না। বাড়ির বাচ্চাদের রিমোট থেকে দূরে রাখুন। সাথে মাসে একবার এসির ফিল্টারটা নিজেই খুলে ধুয়ে নিন। এতে কম্প্রেসারের ওপর চাপ আরও কমবে।

শেষে একটাই কথা। এসি শুধু ঠান্ডা করার মেশিন নয়। এটাও একটা ইঞ্জিনের মতো। ইঞ্জিনকে চালু আর বন্ধ করার মাঝে সময় দিতে হয়। এই ছোট্ট '৩ মিনিটের নিয়ম' টা যদি মেনে চলেন তাহলে দেখবেন আপনার এসির বয়স ৩ থেকে ৪ বছর বেড়ে যাবে। সাথে প্রতি মাসের ইলেকট্রিক বিলও প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।