Travel and Tourism: বর্ষা মানেই পাহাড় আর ঝর্ণা। কিন্তু মেঘালয়-সিকিম অনেক দূর, খরচও বেশি। অথচ কলকাতা থেকে মাত্র ২৩০ কিমি দূরে লুকিয়ে আছে একটা ‘মিনি মেঘালয়’। নাম মাইথন। বরাকর নদীর উপর বিশাল ড্যাম, তার জল টলটলে নীল। চারপাশে সবুজ পাহাড়। আর ১০ কিমির মধ্যেই আছে ভাতিন্ডা ফলস, ধানবাদ ঝরনা। বর্ষায় জলপ্রপাতগুলো ফুলেফেঁপে ওঠে, লেকের জলে মেঘের ছায়া পড়ে।

Monsoon Tourism: বর্ষা পড়লেই মনটা পাহাড়-জঙ্গল করে। কিন্তু ছুটি নেই, পকেটও গড়ের মাঠ। তাই এবার প্ল্যান করুন মাইথন। ঝাড়খণ্ড-বাংলা বর্ডারে এই শহরটাকে লোকে বলে ‘জলপ্রপাতের শহর’। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের তৈরি মাইথন ড্যাম এখানকার শো-স্টপার। ৬৫ স্কোয়ার কিমি জুড়ে নীল জলের লেক। মাঝে মাঝে ছোট ছোট দ্বীপ। বর্ষায় লেকের জল কানায় কানায়, পাহাড়গুলো সবুজ মখমল। আর ১৫ মিনিট গেলেই ভাতিন্ডা ফলসের গর্জন। শহরের ভিড়, কাজের চাপ—সব ধুয়ে যাবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন বর্ষায় মাইথন বেস্ট? 

গরমে মাইথন শুকনো, শীতে শান্ত। কিন্তু জুলাই-সেপ্টেম্বর এর আসল রূপ খোলে। চারদিকের পাহাড় থেকে জল নেমে লেকে পড়ে, জলের রং হয়ে যায় গাঢ় ফিরোজা। ভাতিন্ডা ফলস তিন ধাপে ১২০ ফুট নিচে লাফিয়ে পড়ে। জলের ছিটেয় ভিজে যাবেন, কিন্তু ঠান্ডা লাগবে না। আকাশ মেঘলা, লেকের বুকে স্পিডবোট ছুটলে মনে হবে কাশ্মীরের ডাল লেক। ভিড় নেই, হোটেল রেটও কম। এটাই মাইথনের ইউএসপি।

কীভাবে যাবেন? 

পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছে যান এক, ট্রেন। হাওড়া থেকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস বা শতাব্দী ধরুন। নামুন কুমারডুবি বা বরাকর স্টেশন। সময় লাগবে চার ঘণ্টা। ভাড়া ১৫০-৭০০ টাকা। স্টেশন থেকে মাইথন ড্যাম অটো/গাড়ি ৩০ মিনিট, ৩০০ টাকা রিজার্ভ। দুই, বাস/গাড়ি। ধর্মতলা থেকে আসানসোলগামী AC ভলভো। আসানসোল নেমে ৪৫ মিনিট। নিজের গাড়ি হলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সোজা। রাস্তা মাখন, পাঁচ ঘণ্টা লাগবে।

কী দেখবেন? ২ দিনের পারফেক্ট প্ল্যান

দিন ১: লেক আর দ্বীপ সকালে পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন করুন। ফ্রেশ হয়ে সোজা চলে যান মাইথন ড্যাম। ১৫,৭১২ ফুট লম্বা এই ড্যামের উপর হাঁটতে হাঁটতে নীল জল দেখুন। ওপারে সবুজ পাহাড়, এপারে বাংলার শেষ গ্রাম। ড্যামের গেট খুললে যে গর্জন, বর্ষায় সেটা পাবেন। এবার বোটিং মাস্ট। স্পিডবোট ১০০০ টাকা ৬ জনের, ২০ মিনিট। লেকের মাঝে আছে সবুজ দ্বীপ আর চামচ দ্বীপ। বোট আপনাকে দ্বীপে নামিয়ে দেবে। ওখানে বসে পিকনিক করুন, ছবি তুলুন। লোকাল মাঝিদের থেকে দেশি মুরগি আর ভাত রান্না করিয়ে নিতে পারেন ২০০ টাকা পার হেড। বিকেলে যান ডিয়ার পার্ক। ড্যামের পাশেই। হরিণ, ময়ূর দেখে সানসেট পয়েন্টে যান। লেকের জলে সূর্য ডুবলে গোটা আকাশ কমলা।

দিন ২: ঝর্ণা আর মন্দির ভোরে উঠে চলুন ভাতিন্ডা ফলস, মাইথন থেকে ১৪ কিমি। বর্ষায় ৩টে ধাপেই জল থাকে। একদম নিচে নামা যায়, স্নানও করা যায়। সাবধান, পাথর পিছল। লোকাল ছেলেরা গাইড হবে, ১০০ টাকা দিন। পাশেই আছে ধানবাদ শহরের তোপচাঁচি লেক। ফেরার পথে দেখে নিন। দুপুরে মাইথন ফিরে ৫০০ বছরের পুরনো কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিন। মা কালীর এই রূপ খুব জাগ্রত। মন্দিরের পাশেই বরাকর নদী। নদীর পাড়ে বসে থাকুন। বিকেলে লোকাল মার্কেট থেকে নকশি কাঁথা, পাথরের মূর্তি কিনুন। রাতের ট্রেনে কলকাতা ব্যাক।

কোথায় থাকবেন? খরচ কত? 

মাইথনে DVC-র নিজস্ব গেস্ট হাউস ‘মজুমদার নিবাস’ বেস্ট লোকেশন, লেকের ধারে। অনলাইন বুকিং হয়, ১২০০-২৫০০ টাকা ডবল বেড। এছাড়া হোটেল শান্তিনিবাস, সোনার বাংলা, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজমের মাইথন লজ আছে। ৮০০-২০০০ টাকায় ভালো রুম। খাওয়া-দাওয়া সস্তা। ডাল-ভাত-মাছ ১২০ টাকা। বোটিং, গাড়ি, হোটেল, খাওয়া নিয়ে ২ দিনের খরচ ২০০০-২৫০০ টাকা পার হেড। ৪ জন গেলে আরও কম।

কী খাবেন? 

মাইথনের পোস্ত বড়া আর গরম ভাত মাস্ট ট্রাই। লেকের ফ্রেশ রুই-কাতলা ফ্রাই পাবেন। কল্যাণেশ্বরী মন্দিরের প্যাঁড়া ফেমাস। আর ধানবাদের লিট্টি-চোখা টেস্ট করুন।

কী নেবেন, কী করবেন না?

 এক, ছাতা আর রেইনকোট মাস্ট। বর্ষায় যখন তখন বৃষ্টি। দুই, ভালো গ্রিপের জুতো পরুন। ঝর্ণার পাথর মারাত্মক পিছল। তিন, ক্যাশ রাখুন। নেটওয়ার্ক ইস্যু হয়, UPI চলে না অনেক জায়গায়। চার, ড্যামের জলে নামবেন না। স্রোত আছে। বোটিং শুধু অথরাইজড ঘাট থেকে। পাঁচ, দ্বীপে প্লাস্টিক ফেলবেন না। লেকটা আমাদেরই সম্পত্তি।

মেঘালয়ের ডাউকি লেকের মতো নীল জল আর চেরাপুঞ্জির মতো ঝর্ণা—দুটোই একসঙ্গে পাবেন মাইথনে। তাও হাতের নাগালে, সাধ্যের মধ্যে। এই বর্ষায় লং উইকেন্ডে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। কলকাতার ঘেমো গরম থেকে পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছে যান নীল জলের স্বর্গে। 

সতর্কতা

বর্ষায় ড্যামের গেট হঠাৎ খোলা হতে পারে, জলপ্রপাতের স্রোত বাড়তে পারে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন। অথরাইজড গাইড ছাড়া ঝরনার গভীরে যাবেন না। আবহাওয়া দেখে ট্রিপ প্ল্যান করুন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।