Travel Tips: কালিম্পং মানেই ভিড়, হর্ন, হোটেলের লাইন? এবার একটু দূরে পা বাড়ান সিনজি গ্রামে। পাইন ঘেরা পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই গ্রামে নেই দোকানের কোলাহল, আছে শুধু মেঘ, পাখির ডাক আর নীরবতা। হোমস্টের জানালা খুললেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। শহরের ক্লান্তি ঝেড়ে ২-৩ দিনের জন্য অপার শান্তির ঠিকানা খুঁজলে সিনজি-ই আপনার জায়গা।

Travel Tips: দার্জিলিং-কালিম্পং ঘুরেছেন, কিন্তু "নিজের মতো সময়" পাননি? ট্যুরিস্ট স্পটে গিয়ে ছবি তোলা আর জ্যামে আটকানো - এটাই কি বেড়ানো? পাহাড় মানে তো এক কাপ চা হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেঘ দেখা। সেই আসল পাহাড় খুঁজতে হলে কালিম্পং শহর ছাড়িয়ে ১ ঘণ্টা যেতে হবে। সেখানেই মেঘের দেশ সিনজি। নাম শোনেননি? তাহলেই আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। ভিড়-হীন পাহাড় এখনও বাকি আছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শহরের দূষণ এখানে নেই

সিনজি কোথায়? কীভাবে যাবেন: সিনজি কালিম্পং শহর থেকে মাত্র ১৮-২০ কিমি দূরে। নিউ জলপাইগুড়ি বা NJP স্টেশন থেকে গাড়িতে ৩-৩.৫ ঘণ্টা। শেষ ৩ কিমি রাস্তা একটু খারাপ, কিন্তু পৌঁছানোর পর সব কষ্ট ভুলে যাবেন। শিলিগুড়ি থেকে সোজা কালিম্পং হয়ে লাভা রোড ধরুন, পেডং ক্রস। পাইন বনের রাজ্য: গোটা গ্রাম জুড়ে শুধু উঁচু উঁচু পাইন গাছ। হাঁটতে বেরোলেই পায়ের নিচে পড়ে থাকা পাইন পাতার মচমচ শব্দ। বাতাসে পাইনের গন্ধ। শহরের দূষণ এখানে নেই। মেঘ-কাঞ্চনজঙ্ঘার খেলা: সকালবেলা হোমস্টের ব্যালকনি থেকে দেখুন কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর বিকেল হলেই মেঘ এসে ঘর ছুঁয়ে যাবে। এখানে মেঘ নিচ দিয়ে হাঁটে। লোকজন আর জীবন: মাত্র ১০-১৫০ ঘরের ছোট্ট গ্রাম। লেপচা আর নেপালি মানুষের বাস। ওদের আতিথেয়তা মন জুড়িয়ে দেবে। রাতে জেনারেটর বন্ধ হলেই আকাশভরা তারা।

কী করবেন ২-৩ দিন: পাইন ফরেস্টে হাঁটা: গাইড লাগবে না। গ্রামের রাস্তা ধরেই হাঁটুন। পাখির ডাক শুন, মন শান্ত করুন। ফটোগ্রাফারদের জন্য স্বর্গ। পেডং মনাস্ট্রি ঘুরে আসুন: সিনজি থেকে ২০ মিনিট। ১০০ বছরের পুরোনো মনাস্ট্রি। শান্তি আর নীরবতা দুটোই পাবেন।

স্থানীয় খাবার টেস্ট করুন: হোমস্টেতেই ঘরোয়া নেপালি খাবার - গুন্দ্রুক, ফা-ফা-র, ধেকি শাক। গরম গরম ভাত আর ডালের স্বাদই আলাদা।

থাকা-খাওয়া আর খরচ : সিনজিতে বড় হোটেল নেই, আছে ৫-৬টা হোমস্টে। মাথাপিছু দিনে ১২০০-১৫০০ টাকায় থাকা-খাওয়া হয়ে যাবে। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার সব ওরাই বানিয়ে দেয়। Wi-Fi, নেটওয়ার্ক মাঝে মাঝে থাকে মাঝে মাঝে যায়। নেট অফ রাখার জন্যই তো আসা। অগ্রিম বুকিং মাস্ট, বিশেষ করে অক্টোবর-নভেম্বর আর মার্চ-এপ্রিলে।

সিনজি-র মতো গ্রামে না থাকলে পাহাড়ের আসল রূপ দেখা হয় না

কার জন্য পারফেক্ট এই জায়গা হানিমুন কাপল, একা ঘুরতে ভালোবাসেন এমন মানুষ, রাইটার-আর্টিস্ট, আর যারা "ডিজিটাল ডিটক্স" চান - সবার জন্য সিনজি। বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ নিয়ে গেলে গাড়ি একদম হোমস্টের গেটে যায় কিনা দেখে বুক করবেন। কারণ গ্রামের ভেতরে একটু চড়াই-উতরাই আছে।

শেষ কথা কালিম্পং-লাভা-রিশপ সবাই ঘোরে। কিন্তু সিনজি-র মতো গ্রামে না থাকলে পাহাড়ের আসল রূপ দেখা হয় না। এখানে সময় থেমে থাকে। ২ রাত থাকুন, দেখবেন মন-মাথা দুটোই হালকা লাগছে।

আপনি কি অফবিট পাহাড় পছন্দ করেন নাকি শহরের কাছের বর্ষায় রাস্তা ধস নামে। অক্টোবর থেকে মে মাস সিনজি ঘোরার বেস্ট সময়। যাওয়ার আগে স্থানীয় হোমস্টের সাথে রাস্তার আপডেট নিয়ে নেবেন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।