১৫ই আগস্ট বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকা টাঙলে শুধু দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় না। বাস্তু মতে এতে বাড়িতে পজিটিভ এনার্জি আসে, বাধা কাটে। জেনে নিন সঠিক নিয়ম।
লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী পতাকা তোলেন, আর আমরা নিজের বাড়ির ছাদে। স্বাধীনতা দিবস মানে শুধু ছুটি নয়, এটা আমাদের গর্বের দিন। আর এই দিনে ছাদে জাতীয় পতাকা টাঙালে তার একটা আলাদাই এনার্জি থাকে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, খোলা আকাশের নিচে তেরঙা উড়লে বাড়ির নেগেটিভিটি কেটে পজ়িটিভিটি আসে।
কেন ছাদে পতাকা টাঙানো শুভ? ১. দেশপ্রেমের প্রতীক: সবার আগে এটা আমাদের স্বাধীনতার সম্মান। পতাকা দেখলেই বুকের ভেতরটা গর্বে ভরে ওঠে। ২. বাস্তু মতে পজিটিভ এনার্জি: খোলা জায়গায় পতাকা উড়লে বাতাসের সাথে বাড়িতে ভালো শক্তি ঢোকে। আর্থিক বাধা কাটে বলে মনে করা হয়। ৩. একতার বার্তা: পাড়ার সব বাড়িতে যখন একসাথে পতাকা ওড়ে, তখন একটা উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
পতাকা টাঙানোর ৫টি জরুরি নিয়ম: জাতীয় পতাকা আমাদের মান-সম্মান। তাই Flag Code মেনে টাঙানো জরুরি।
প্রথমত, পতাকার মাপ। পতাকা যেন ছেঁড়া, ময়লা বা বিবর্ণ না হয়। পলিস্টার বা খাদি কাপড়ের পতাকাই ব্যবহার করুন।
দ্বিতীয়ত, কোথায় টাঙাবেন। ছাদের সবচেয়ে উঁচু জায়গায়, যেখানে সহজে হাওয়া লাগে। অন্য কোনো পতাকার নিচে বা পাশে ছোট করে লাগাবেন না।
তৃতীয়ত, কখন তোলা-নামানো। ১৫ই আগস্ট সকালবেলা সূর্য ওঠার পর পতাকা তুলুন। সূর্যাস্তের আগে নামিয়ে ভাঁজ করে যত্ন করে তুলে রাখুন। সারারাত ছাদে ফেলে রাখবেন না।
চতুর্থত, পতাকার অবস্থান। গেরুয়া রংটা সবসময় ওপরে থাকবে। সাদার মাঝে ২৪টি দণ্ড যুক্ত নীল অশোকচক্র ঠিক মাঝে থাকবে। উল্টো করে টাঙাবেন না।
পঞ্চমত, সম্মান। পতাকা মাটিতে পড়তে দেবেন না। পায়ের নিচে বা টেবিলের উপর বিছিয়ে রাখবেন না। নষ্ট হয়ে গেলে সম্মানের সাথে জলে ভাসিয়ে দিন বা পুড়িয়ে দিন।
পতাকা তোলার পর কী করবেন? পতাকা তোলার পর জাতীয় সংগীত গাইতে পারেন পরিবারের সবাই মিলে। ছোটদের স্বাধীনতার গল্প শোনান। মিষ্টি বিতরণ করুন।
এই ছোট কাজটাই আপনার মধ্যে এবং বাড়ির চারপাশে একটা দেশাত্মবোধের এনার্জি ছড়িয়ে দেবে। এক টুকরো কাপড়, তিনটে রং। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজারো শহিদের ত্যাগ। এই ১৫ই আগস্ট ছাদে পতাকা টাঙান। নিজের জন্য, দেশের জন্য।


