এখন বিশ্বজুড়ে সেটাই ‘ট্রেন্ড’। মাখন-দৌড়। মাখন নিয়ে দৌড়নো নয়, দৌড়ে মাখন তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।
পিঠে বা ব্যাগে ক্রিম (Cream) নিয়ে দৌড়ে মাখন তৈরির নতুন ভাইরাল ট্রেন্ড হলো ‘বাটার রান’ (Butter Run) বা মাখন-দৌড়। দৌড়ানোর সময় শারীরিক কসরত ও ঝাঁকুনিতে ব্যাগের ক্রিমের মধ্য থেকে জল ও ফ্যাট আলাদা হয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মাখন তৈরি হয় । এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও মজাদার কসরত।
কীভাবে কাজ করে? দৌড়বিদরা জিপ-লক ব্যাগে ভারী ক্রিম ভরে তা নিয়ে দৌড়ান। টানা ৮-১০ কিলোমিটার বা তার বেশি দৌড়ানোর ফলে, শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ এবং অবিরাম ঝাঁকুনিতে ক্রিম ঘন হয়ে মাখনে পরিণত হয় ।
পন্থা সহজ। ক্রিম ভরতে হবে প্যাকেটে। তার পর তা ভরতে হবে ব্যাকপ্যাকে। ব্যাগ ভর্তি ক্রিম নিয়েই শুরু হবে দৌড়। তত ক্ষণ লাফালাফি, দৌড়, হাঁটা জারি থাকবে, যত ক্ষণ না সেই ক্রিম মন্থনের ফলে মাখনে পরিণত হচ্ছে। ক্রিম থেকে জল এবং মাখন আলাদা হলে সম্পূর্ণ হবে খেলা।
কেন জনপ্রিয়? এটি সাধারণ জিমের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের ব্যায়াম। দৌড়বিদরা তাদের দৌড়কে শুধুমাত্র ক্যালোরি বার্ন নয়, বরং একটি সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত করছেন।
মূল উদ্যোক্তা: এই ট্রেন্ডটি অ্যারন কোপ (Cope) এবং তার সঙ্গীদের দৌড়ানোর সময় ক্রিম মাখনে পরিণত করার ভাইরাল ভিডিওর পর থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে তারা প্রায় ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাখন তৈরির আদর্শ পরিবেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাস ও বিজ্ঞান: এটি আসলে একটি পুরনো পদ্ধতি—মানুষ আগে চামড়ার ব্যাগে দুধ বহন করার সময় ঝাঁকুনিতে তা থেকে মাখন তৈরি হতো। এটি একটি সাধারণ পদার্থবিজ্ঞান ও খাদ্যের রসায়ন।
উপকারিতা: এটি শরীরের দহনক্রিয়া বা ক্যালোরি পোড়ানোর নতুন উপায় (চার্নিং অ্যান্ড বার্নিং) হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
শরীর ফিট রাখতে জগিং, দৌড়, মাইলের পর মাইল হাঁটা বড়ই একঘেয়ে। তবে মাখন-দৌড়ে রয়েছে চ্যালেঞ্জ, নতুনত্ব। সেটাই আগ্রহের কারণ হয়ে উঠছে অনেকের কাছেই। কত ক্যালোরি খরচ হচ্ছে, কতটা হাঁটা হল, সেই দিকে না তাকিয়ে নজর দিতে হবে ক্রিম মন্থনে। লম্বা রাস্তায় জগিং, ছোটা, লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে দূরত্ব পার করলে তবেই লক্ষ্যলাভ সম্ভব। মসৃণ রাস্তায় মন্থর গতিতে হাঁটলে ক্রিম আর মাখন হবে না। সুতরাং, এই শরীরচর্চা কঠোর শ্রমসাপেক্ষ। অতএব এটি দৌড়ানোর সাথে খাওয়ার উপাদান তৈরির একটি মজার ও স্বাস্থ্যকর চ্যালেঞ্জ।
