খাওয়াদাওয়ার পর বাসন তো মাজতেই হবে। তবে জানেন কি, ঠান্ডা জলে বাসন মাজার ফলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাতের ত্বকের ক্ষতি করে ঠান্ডা জল। স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে পারে ত্বক। 

শীতকালে বাসন মাজতে গিয়ে হাত ঠান্ডা হয়ে জমে গেলে স্বস্তি পেতে ব্যবহার করুন গরম জল, ভালো মানের গ্লাভস, এবং কাজ শেষে হাতে ময়েশ্চারাইজার বা অ্যালোভেরা ও হলুদের মিশ্রণ লাগান। রক্তাল্পতা বা ভিটামিন ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ মূলত ঠাণ্ডা জল এবং দুর্বল রক্ত সঞ্চালনের কারণে এমনটা হয়, যা গ্লাভস বা গরম জলের সাহায্যে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং স্বাস্থ্যগত কারণে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন এমন হয়?

* ঠান্ডা জলের প্রভাব: শীতের ঠান্ডা জল সরাসরি ত্বকে লাগলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে হাতে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং হাত জমে যায়।

* দুর্বল রক্ত সঞ্চালন (Blood Circulation): শরীরের মূল তাপমাত্রা বজায় রাখতে এবং হাত-পা গরম রাখতে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল প্রয়োজন; রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) বা ভিটামিন বি১২, আয়রনের ঘাটতি থাকলে হাত ঠান্ডা হতে পারে।

* অলস জীবনযাত্রা: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা নড়াচড়া না করলে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়, ফলে হাত-পা ঠান্ডা থাকে।

স্বস্তির সহজ উপায়:

১. গরম জলের ব্যবহার: বাসন ধোয়ার জন্য হালকা গরম জল ব্যবহার করুন। এতে হাত ঠান্ডার সংস্পর্শে কম আসবে।

২. গ্লাভস ব্যবহার: বাসন মাজার সময় অবশ্যই মোটা রাবারের গ্লাভস পরুন। এটি ঠান্ডা জল থেকে আপনার হাতকে রক্ষা করবে।

৩. কাজ শেষে ময়েশ্চারাইজিং: বাসন মাজার পর হাত ভালো করে মুছে, হাতে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, ভেসলিন, বা গ্লিসারিন লাগান। অ্যালোভেরা, হলুদ ও মধুর মিশ্রণও ব্যবহার করতে পারেন।

৪. হাতের ব্যায়াম: হালকা ব্যায়াম, যেমন হাত মুষ্টিবদ্ধ করা ও খোলা, আঙুল নাড়ানো, বা হাত ঝাঁকানো রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৫. পর্যাপ্ত পোশাক: হাত গরম রাখতে দরকার হলে উল বা উলের মোজা এবং গরম পোশাক পরুন, যা শরীরের মূল তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়: যদি এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বনের পরেও আপনার হাত অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকে এবং অসাড় লাগে, তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভিটামিন বি১২ বা আয়রনের ঘাটতি বা অন্য কোনো রক্তাল্পতার কারণে এমনটা হলে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।