Lifestyle Tips: রান্নার পর চালধোয়া জল আর ভাতের ফ্যান ফেলে দেন? থামুন। এই জলে থাকা স্টার্চ আর ভিটামিন আপনার ৫টি জনপ্রিয় গাছের গ্রোথ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। জেনে নিন ব্যবহারের নিয়ম।
Lifestyle Tips: প্রতি বাড়িতেই রোজ ভাত রান্না হয়। চাল ধোয়ার জল আর ভাতের ফ্যান সোজা চলে যায় সিঙ্কে।
কিন্তু কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জলেই লুকিয়ে আছে গাছের জন্য দরকারি নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম আর B ভিটামিন। একদম ফ্রি-তে পাওয়া অর্গানিক সার। রাসায়নিক সার কেনার আর দরকার নেই।
কোন ৫টি গাছের জন্য একদম আদর্শ?
১. মানি প্ল্যান্ট ও লতানো গাছ :
চালধোয়া জলে থাকা স্টার্চ শিকড়ের গ্রোথ বাড়ায়। সপ্তাহে ২ দিন দিলেই পাতা হবে বড়, সবুজ আর চকচকে।
২. জবা ও গোলাপ গাছ:
ফুল আসছে না? ভাতের ফ্যান ঠান্ডা করে গোড়ায় দিন। ফসফরাস ফুল ধরাতে সাহায্য করে। ১৫ দিনের মধ্যে কুঁড়ির সংখ্যা বেড়ে যাবে।
৩. পুদিনা, ধনেপাতা ও সবজি গাছ:
সবজির টবে দিন। নাইট্রোজেন পাতার গ্রোথ বাড়ায়। ফলে পাতা হবে নরম আর সতেজ। তবে পাতায় না দিয়ে সরাসরি মাটিতে দেবেন।
৪. অ্যালোভেরা ও স্নেক প্ল্যান্ট :
এই গাছগুলো কম জল পছন্দ করে। মাসে ২ বার পাতলা করে দেওয়া চালধোয়া জল গাছকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।
৫. লেবু ও অন্যান্য ফলের গাছ :
ফল ঝরে যাওয়ার সমস্যা কমায়। পটাশিয়াম ফলের মিষ্টতা বাড়ায়। টবের গাছে বিশেষ উপকার পাবেন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন? ৩টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:
নিয়ম ১: সবসময় পাতলা করে দিন:
একদম ঘন ফ্যান দেবেন না। ১ মগ ফ্যানের সাথে ৫ মগ সাধারণ জল মিশিয়ে নিন। নাহলে মাটিতে ফাঙ্গাস হবে।
নিয়ম ২: বাসি ফ্যান ব্যবহার করুন :
টাটকা গরম ফ্যান নয়। রাতভর রেখে দেওয়া "ফার্মেন্টেড" চালধোয়া জল সবচেয়ে ভালো। ১২-২৪ ঘণ্টা রেখে দিন। এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।
নিয়ম ৩: সপ্তাহে ১-২ বার:
রোজ দেবেন না। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারই যথেষ্ট। বেশি দিলে মাটি চিটচিটে হয়ে শিকড় পচে যাবে।
কখন ব্যবহার করবেন না?
যদি ভাতে নুন, হলুদ বা তেল দিয়ে রান্না করেন, সেই ফ্যান গাছে দেবেন না। শুধু সাদা ভাতের ফ্যান আর সাধারণ চালধোয়া জলই ব্যবহার করুন।
টাকা খরচ করে সার কেনার আগে রান্নাঘরের দিকেই তাকান। চালধোয়া জল হল প্রকৃতির দেওয়া সেরা টনিক।
আজ থেকে অভ্যাস বদলান। ফেলনা জিনিস দিয়েই বাড়ির বাগান সবুজ করে তুলুন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


