কলকাতা থেকে মাত্র ৪-৪.৫ ঘণ্টার দূরত্বে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার ডাগারা সমুদ্র সৈকত। ভিড়হীন, নির্জন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই সৈকত উইকএন্ড ট্রিপের জন্য আদর্শ। ঝাউবন, সোনালি বালি আর বাঁকুড়া নদীর মোহনা মিলে তৈরি করেছে মায়াবী পরিবেশ। থাকার ব্যবস্থা সীমিত, তাই শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট। 

কলকাতার কাছেই অথচ এখনও পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়নি এমন সমুদ্রতট খুঁজছেন? তাহলে আপনার গন্তব্য হতে পারে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার ‘ডাগারা সমুদ্র সৈকত’। বালাসোর থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত এই সৈকত প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন। উইকএন্ডে দু’দিনের ছোট্ট ট্রিপের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ডাগার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর নিস্তব্ধতা আর অকৃত্রিম সৌন্দর্য। দীঘা বা পুরীর মতো এখানে দোকানপাট বা হইচই নেই। শুধু আছে কিলোমিটার জুড়ে সোনালি বালি, ঝাউবনের সারি আর নীলচে সবুজ সমুদ্রের অবিরাম ঢেউ। সকালবেলা সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে জেলেদের নৌকা আর তাজা মাছ ধরার দৃশ্য। পায়ের নিচে নরম বালি আর কানের পাশে ঢেউয়ের শব্দ মনকে একদম শান্ত করে দেয়। বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিমে ঢলে পড়ে, তখন ঝাউবনের ছায়ায় বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়।

এই সৈকতের আরেক আকর্ষণ হলো বাঁকুড়া নদীর মোহনা। যেখানে নদী এসে মিশেছে সমুদ্রে, সেখানে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। পাখিপ্রেমীদের জন্যেও ডাগারা স্বর্গ। শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে, যা পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় পাওনা। ফটোগ্রাফি বা একান্তে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটা একদম পারফেক্ট।

থাকার ব্যবস্থা এখনও খুব বেশি গড়ে ওঠেনি, এটাই ডাগার নিরিবিলি ভাবটা ধরে রেখেছে। বালেশ্বর শহরে ছোট হোটেল আর হোমস্টে পেয়ে যাবেন। অনেকে তাঁবু খাটিয়ে বিচের ধারে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতাও নেন। স্থানীয়রা খুবই অতিথিপরায়ণ, আর খাবার হিসেবে তাজা মাছের ঝোল আর ভাত অবশ্যই ট্রাই করুন। দামও বেশ সাধ্যের মধ্যে।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে NH16 ধরে বালাসোর হয়ে ডাগারা পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৪-৪.৫ ঘণ্টা। হাওড়া থেকে বালাসোর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি বা অটোতে 45 মিনিটের পথ।

সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় আবহাওয়া ঠান্ডা আর মনোরম থাকে। বর্ষাকালে সমুদ্র উত্তাল থাকে বলে না যাওয়াই ভালো।