সকাল ৮টায় অফিসের মিটিং, আর রান্নার সময় নেই। এই ব্যস্ত জীবনে ওভারনাইট ওটস এখন তরুণ থেকে বয়স্ক সবার ফেভারিট ব্রেকফাস্ট। আগের রাতে দুধ বা দইয়ে ওটস ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখা। সকালে তার উপর কলা, বাদাম ছড়িয়ে খেয়ে বেরিয়ে পড়া। ঝামেলা নেই, গ্যাস নেই, সময়ও বাঁচে। কিন্তু রোজ এটা খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো?
সকাল ৮টায় অফিসের মিটিং, আর রান্নার সময় নেই। এই ব্যস্ত জীবনে ওভারনাইট ওটস এখন তরুণ থেকে বয়স্ক সবার ফেভারিট ব্রেকফাস্ট। আগের রাতে দুধ বা দইয়ে ওটস ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখা। সকালে তার উপর কলা, বাদাম ছড়িয়ে খেয়ে বেরিয়ে পড়া। ঝামেলা নেই, গ্যাস নেই, সময়ও বাঁচে। কিন্তু রোজ এটা খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো?

উত্তর হল হ্যাঁ, বেশিরভাগ মানুষের জন্য রোজ ওভারনাইট ওটস খাওয়া উপকারী। ওটসের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর ফাইবার। বিশেষ করে "বিটা-গ্লুকান" নামের ফাইবারটা পেটে গিয়ে জেলের মতো ফুলে যায়। তাই খাওয়ার পর অনেকক্ষণ খিদে লাগে না। অফিসে বসে বারবার চা-বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাসও কমে। এই একই ফাইবার রক্তে সুগার ধীরে ধীরে ছাড়ে। যাদের সুগার বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য এটা খুব ভালো। আবার এই ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে টেনে বের করে দেয়। ফলে হার্টও ভালো থাকে। ওজন কমানোর ডায়েটেও ডাক্তাররা তাই ওটস রাখতে বলেন কারণ ক্যালোরি কম কিন্তু পেট ভরে।
আরেকটা বড় সুবিধা হল হজম। ওভারনাইট ভেজানোর ফলে ওটস নরম হয়ে যায় আর এর মধ্যে থাকা "ফাইটিক অ্যাসিড" কমে যায়। যার ফলে শরীর ওটস থেকে আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়ামের মতো মিনারেল সহজে নিতে পারে। যদি দই দিয়ে বানান তাহলে সাথে প্রোবায়োটিকও পেয়ে যাচ্ছেন। পেট পরিষ্কার থাকবে, গাট হেলথ ভালো হবে।
কিন্তু সব ভালোর মধ্যেও দুটো খুঁত আছে। প্রথমত ওটস কার্ব আর ফাইবারে ভরপুর হলেও প্রোটিন কম। রোজ শুধু ওটস আর ফল খেলে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে। চুল পড়া, ক্লান্তি, মাসল কমে যাওয়ার মতো সমস্যা আসতে পারে। দ্বিতীয়ত যাদের পেট খুব সেনসিটিভ বা IBS-এর সমস্যা আছে তাদের বেশি ফাইবার একসাথে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা হতে পারে। আর বাজার থেকে কেনা ফ্লেভার্ড ওটসে চিনি আর প্রিজারভেটিভ থাকে। রোজ সেটা খেলে লাভের বদলে ক্ষতিই বেশি।
তাহলে উপায় কী?
রোজ ওটস খান, কিন্তু একটু বুদ্ধি করে। ওটসের সাথে প্রোটিন যোগ করুন। গ্রিক দই, চিয়া সিড, আমন্ড, চিনে বাদামের বাটার বা এক চামচ প্রোটিন পাউডার মিশিয়ে নিন। মিষ্টি করার জন্য চিনি নয়, কলা, খেজুর বা একটু মধু ব্যবহার করুন। আর সবচেয়ে দরকারি হল ভ্যারাইটি। সপ্তাহে ৭ দিনই ওটস না খেয়ে ৫ দিন ওটস আর ২ দিন ডিম, পোহা বা চিড়ে খান। তাহলে শরীর সব রকম পুষ্টি পাবে।
মাপটাও মনে রাখবেন। একজনের জন্য ৪০ গ্রাম ওটস, আধ কাপ দুধ বা দই, এক মুঠো বাদাম আর একটা ফল। এটাই একটা ব্যালেন্সড বাটি। ওভারনাইট ওটস খারাপ নয়। বরং এটা একটা দারুণ সুপারফুড। রোজ খেলে উপকারই হবে। শুধু মনে রাখবেন ব্রেকফাস্টটা যেন শুধু "ওটস" না হয়, সেটা যেন "সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার" হয়।
